প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ১:৩৩ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। কেউ সন্তান হারিয়েছেন, কেউবা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা সন্তানের জন্য বুক চাপড়ে কাঁদছেন।
সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় হাসপাতালের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যায়, বার্ন ইউনিট পরিণত হয়েছে এক টুকরো শোকের রাজ্যে। ভাষাহীন স্বজনরা কেবল চোখের জল ফেলছেন- কোনো শব্দে, কোনো সান্ত্বনায় সেই যন্ত্রণা ধরা সম্ভব নয়।
পঞ্চম তলার করিডোরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মেহরিনের মামা ফাহাদ নিয়ন স্কুলড্রেসটা জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘ও খুব নিষ্পাপ। ও সারা দিন পড়াশোনা করে। এখন ওর দুই হাত, মুখ পুড়ে গেছে। আমি কী করব?’ পাশে থাকা এক নারী তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিজেই চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি।
পাশেই কাঁদছিলেন ইয়াসমিন আক্তার, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরে জান্নাতের মা। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। মেয়ে বলে মা, আমার সব জ্বলে। ওর কপাল, মুখ, পিঠ- সব পুড়ে গেছে।’
এক কোণে বসে বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন নাসিমা বেগম। তাঁর ছেলে সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া রবিউল হাসান রোহান বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় কাতর। কাঁপা কাঁপা গলায় বলছিলেন, ‘এমন দশা কেমনে হইল রে? কত মায়ের বুক খালি হইছে। আমার রোহান কাতরাইতাছে… কিছুই করতে পারি না।’
চতুর্থ তলায় আইসিইউর সামনে অপেক্ষা করছিলেন ১০-১২ জন স্বজন। কেউ দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে কাঁদছেন, কেউ নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছেন। মুখে কারও কোনো কথা নেই- শুধু ভয়ার্ত আর্তনাদ ভেসে বেড়াচ্ছে চারপাশে।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বার্ন ইনজুরিতে ভুগছে, এবং বেশ কয়েকজন ভেন্টিলেশনে রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম