
শরীরের সঠিক গঠন ও সচলতা বজায় রাখতে মজবুত হাড়ের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু অনেক সময়ই আমরা হাড়ের যত্নে অবহেলা করি, যার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যায় বা হাড় ক্ষয়ের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
এর প্রধান কারণ হলো প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সেই হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি ধরে রাখতে কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলুন জেনে নিই এমন ৫টি উপাদান সম্পর্কে, যা হাড়ের গঠন ও সুস্থতায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১. ক্যালসিয়াম
হাড়ের মূল গঠন উপাদান হলো ক্যালসিয়াম। হাড়ের ঘনত্বের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে এই খনিজ থেকে। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পেলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
২. ফসফরাস
ফসফরাস ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে হাইড্রক্সি অ্যাপেটাইট তৈরি করে, যা হাড়ের কাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়ক। এটি হাড়ের ভিত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩. ভিটামিন ডি
এই ভিটামিন অন্ত্রনালি থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেটস, অস্টিওম্যালাসিয়া এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগ হতে পারে।
৪. ম্যাগনেশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন ডি–কে সক্রিয় করতে প্রয়োজন হয়। এটি হাড়ের বিপাক প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ।
৫. জিংক
জিংক হাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত ও নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। এটি হাড়ের কোলাজেন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে, যা হাড়ের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কোথায় পাবেন এসব পুষ্টি উপাদান
এসব প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আমাদের দৈনন্দিন খাবারেই অনেকাংশে পাওয়া যায়। যেমন, ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় দুধ, দই, পনিরসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবারে। সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি যেমন পালংশাক ও লালশাকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।
লাল মাংস ও ডিমে থাকে ফসফরাস ও জিংক, যা হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। মাছ এবং বিশেষ করে তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেলে পাওয়া যায় ভিটামিন ডি। এছাড়া, আটা, গম ও বার্লির মতো শস্যজাত খাবারেও হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে।
তবে অনেক সময় শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমেই শরীরের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে বা বিশেষ কোন রোগে আক্রান্ত হলে শরীর অতিরিক্ত পুষ্টির দাবি করে।
এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে সাপ্লিমেন্ট বা ভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহণের। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে পুষ্টি গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ