চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ডিজিটাল টাস্কফোর্স গঠনের দাবি এসএমই অ্যাসোসিয়েশন-এনসিপি নেতাদের

চাঁদাবাজির ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে পুলিশ, র্যাব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছেন ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১৫ জুলাই) ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। এনসিপি এসএমই উইং-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী ও এনসিপির যুগ্ম প্রধান সমন্বয়কারী আশিকীন আলম।
আশিকীন আলম বলেন, “চাঁদাবাজি রোধে রাষ্ট্র যদি ব্যর্থ হয়, তবে আমরা ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নেব। ব্যবসায়ী সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে একত্র করে একটি জাতীয় চাঁদাবাজি বিরোধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “গত এক দশকে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করতে গিয়ে ১৩৭ জন এসএমই উদ্যোক্তা নিহত হয়েছেন। শুধু চলতি অর্থবছরেই ঢাকায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।” আশিকীন আলম বলেন, চাঁদাবাজি উৎপাদন খরচ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের ‘ই-চাঁদাবাজি’ দিন দিন বাড়ছে। পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, “বর্তমানে ৭০% চাঁদাবাজ চক্র রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয়।”
বিশেষ দাবিসমূহের মধ্যে ছিল:
পুলিশ, র্যাব ও এনবিআর সমন্বয়ে ডিজিটাল টাস্কফোর্স গঠন
চাঁদাবাজি সংক্রান্ত হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, যেখানে সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন
প্রতিটি থানায় এসএমই সুরক্ষা সেল প্রতিষ্ঠা
২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদাবাজি বিরোধী অধ্যাদেশ প্রণয়ন
সাক্ষী সুরক্ষা আইন শক্তিশালী করা
চাঁদাবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনগত বিধান
ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই-এসপিডি সার্কুলার নং ০২–এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত এসএমইদের অন্তর্ভুক্তকরণ
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন:
তারিক হোসেন, সোলায়মান হাকিম, তাহমিনা শারমিন জুথি, আব্দুল মতিনসহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশন ও এনসিপির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
নেতারা জানান, এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর/শিহাব