প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ৭:০২ পিএম

স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউপির ভাটিবন্দর এলাকায় খাসেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনের সিলিং ভেঙে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউপির ভাটিবন্দর এলাকায় খাসেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিনশেড বিল্ডিংয়ের প্লাস্টিকের বোর্ডের সিলিং ভেঙে পড়ে, শ্রেণিকক্ষের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় ভয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এছাড়াও, এই বিদ্যালয়ে এক বছর আগেও পাশের রুমের সিলিং ভেঙে পড়েছিল বলে জানা যায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল মুঠোফোনে বলেন, “টিনশেড বিল্ডিংটি পরিত্যক্ত হলেও আপাতত শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ক্লাস চলছে। আজকের সিলিং ভেঙে পড়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমি ঝাউচর এলাকায় একটি মাসিক মিটিংয়ে আছি। মিটিং শেষ করে বিষয়টি বিদ্যালয়ে এসে দেখবো।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ফুয়াদ বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজকে বিদ্যালয়ে আসেননি। তিনি ঝাউচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক মিটিংয়ে আছেন। বিদ্যালয়ের টিনশেড বিল্ডিং দ্রুত মেরামত করা জরুরি।”
আহত শিক্ষার্থীরা বলেন, “শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ সিলিং ভেঙে পড়ে। এ সময় আমি নাজমুল ইসলাম, আল আমিন ও আবু সাইদ আহত হই। আমাদের মধ্যে আল আমিনের ডান পায়ে রক্তাক্ত জখম হয়। আমাদেরকে শ্রেণি শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সিলিং ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক আমাদের দেখতে আসেননি।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আফজাল মেম্বার জানান, “আমি কয়েকবার বিদ্যালয়ে সংস্কারের জন্য টাকা দিয়েছি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়ালের গাফিলতির কারণেই সিলিং ভেঙে পড়েছে।”
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে সিলিং ভাঙার বিষয়টি জানলাম। বিদ্যালয়ের সিলিং ড্যামেজের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে অবগত করেননি। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের চরম অবহেলা হয়েছে বলে আমি মনে করি। সিলিং ড্যামেজের বিষয়ে অবগত না করায় তাকে শোকজ করা হবে।”