প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ১১:৫৫ AM

টানা বৃষ্টির পর ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে এবং অনেক এলাকায় পানি নামতে দেখা গেছে। তবে এখনও নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, বিশেষ করে ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলার কিছু অংশে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া (আংশিক), ফেনী সদর (আংশিক) ও দাগনভূঞা (আংশিক) উপজেলার ১০৯টি গ্রামে মানুষ এখনো দুর্ভোগে আছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৮২ টি কেন্দ্রে প্রায় ৯ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, এবং তাদের জন্য রান্না করা খাবারসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ বিতরণে নিয়োজিত রয়েছেন। পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দুর্গতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা ও অসুস্থ ১৮ জন নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
এদিকে বন্যার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় ৩১ হাজার গ্রাহক এক পর্যায়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল করা হচ্ছে।
গত তিন দিনে সীমান্তবর্তী মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশে ২০ টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে পরশুরামের ১২টি এবং ফুলগাজীর ৮টি স্থানের গ্রাম প্লাবিত হয়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে। কোথাও ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের বন্দুয়া দৌলতপুর গ্রামে করুণ এক ঘটনা ঘটেছে। বন্যার পানিতে কারেন্ট জালে জড়িয়ে মারা যান নুরুল আলম (৬২) নামে এক বৃদ্ধ। তিনি ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক কমান্ডারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ধৈর্য ধারণ ও সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম