বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
লালমাটির বুকে এক অনন্য জ্ঞানবৃক্ষ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫, ১:১৫ পিএম আপডেট: ০৩.০৭.২০২৫ ২:৩৩ PM

চারদিকে লালমাটির পাহাড়, পাহাড়ের বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা গাঢ় সবুজ অরণ্য। যেন প্রকৃতি তার নিজ হাতে তুলির আঁচড়ে এঁকে দিয়েছে স্বপ্নের মত এক চিত্রপট। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কখনও স্নিগ্ধ হাওয়ার ধারা, কখনও নিসর্গের নীরবতা এই সবকিছুকে ঘিরেই দাঁড়িয়ে আছে এক আলোক দিশারী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

লালমাটির ঢেউ আর সবুজ অরণ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কুমিল্লার ময়নামতি এলাকায়, যেখানে শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের মতো প্রাচীন নিদর্শন এখনও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।

লালমাটির ক্যাম্পাসের সূচনালগ্ন: ইংরেজ আমল থেকেই কুমিল্লাবাসীর একান্ত দাবি ছিল একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার। সেই বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় ২০০৬ সালের ২৮ মে, যখন দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৭ সালের ২৮ মে ১৫ জন শিক্ষক এবং ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানের এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদে ১৯টি বিভাগ চালু রয়েছে এবং প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত। 

অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদের জন্য পৃথক রয়েছে ভবন ও ক্লাসরুম। প্রতিটি ক্লাসরুমে রয়েছে প্রজেক্টর সুবিধা যা পাঠদানকে আরো সহজতর করে তোলে। এছাড়াও রয়েছে সেমিনার রুম, ডিজিটাল ল্যাব ও সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট।এই ক্যাম্পাসে আরো রয়েছেএকটি সুসজ্জিত  লাইব্রেরি; যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধিকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মোট ৫টি আবাসিক হল তন্মধ্যে ছেলেদের ৩টি ও মেয়েদের ২টি আবাসিক হল। এই আবাসিক  হলগুলোতেও ইন্টারনেট পরিসেবা থেকে শুরু করে সুপেয় পানি, ইত্যাদি নানান ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও লালমাটির এই ক্যাম্পাসে রয়েছে কেন্দ্রীয় মসজিদ ও সেন্ট্রাল ফিল্ড ও শহিদ মিনার যা ক্যাম্পাসের শোভা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া এখানে রয়েছে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া যেখানে থাকে নানান ধরনের খাবারের সমাহার এবং  যাকে হাসি, মজা ও আড্ডার মিলনকেন্দ্রও বলা হয়। 

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য চালু রয়েছে বাস সার্ভিস, সুপেয় পানির জন্য রয়েছে ফিল্টার ও শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত একটি মেডিকেল সেন্টার ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে  রয়েছে  পি এ চত্বর, চিঠি চত্বর, মুক্ত মঞ্চ, পাহাড়তলী ইত্যাদি সব মনোমুগ্ধকর স্থান।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রকৃতির আঁচলে মোড়ানো এক নিঃশব্দ পাঠশালা। পাহাড়ের ঢালে লালমাটির পথে হাঁটলেই চোখে পড়ে ছায়াঘেরা গাছপালা, আর পাখির ডাকে ভরে ওঠা আকাশ। গ্রীষ্মে আম-কাঁঠালের ঘ্রাণ, বর্ষায় কৃষ্ণচূড়া আর জারুলের রঙ, শরতে শুভ্র কাশফুলের ঢেউ প্রতিটি ঋতুই এখানে নিজেকে তুলে ধরে নতুন সাজে। এখানে প্রকৃতি আর প্রজ্ঞা হাত ধরাধরি করে চলে, আর প্রতিটি সকাল যেন শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানের পাশাপাশি এক টুকরো প্রশান্তিও বয়ে আনে।

গবেষণায় অগ্রণী: বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল পরিচয়ই হলো গবেষণামূলক শিক্ষা। কারণ এখানেই জ্ঞান সৃষ্টি হয়, এখান থেকেই চিন্তার নতুন পথ উন্মোচিত হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। দেশের নানা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি, এবং বিদেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য গমন এসবই তাদের প্রতিভার প্রতিফলন।

সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রাণবন্ত: শুধু পাঠ্যক্রম নয়, শিক্ষার পূর্ণতা আসে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই। এই ছোট্ট ক্যাম্পাসেই গড়ে উঠেছে থিয়েটার, প্রতিবর্তন, সাংবাদিক সমিতি, বিতর্ক সংঘ, সায়েন্স ক্লাব, বন্ধু রক্তদান সংগঠন, আইটি সোসাইটির মতো একাধিক সংগঠন, যারা নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংগঠনগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত করছে।

আধুনিকায়নের পথে অগ্রযাত্রা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নেও রয়েছে দৃঢ় অঙ্গীকার। ৫০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গ্রহণ করা হয়েছে ১৬৫৫ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প। আধুনিক একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, ছাত্রী-ছাত্রাবাসসহ নানা সুবিধা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আজ শুধু কুমিল্লার গর্ব নয়, বরং এটি বাংলাদেশের একটি আধুনিক, গবেষণামূলক ও পরিবেশবান্ধব উচ্চশিক্ষার প্রতীক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, গবেষণা,  সাংস্কৃতিক পরিসরের এক অনন্য সমন্বয় এবং পরিশেষে বলা যায়, ছবির মতো সুসজ্জিত লালমাটির এই ক্যাম্পাস কেবলমাত্র জ্ঞান ও অগ্রগতির ধারক বাহকই নয়, বরং প্রতিটি কুবিয়ানের কাছে হাজারো স্মৃতি ও আত্মার টানের এক অনন্য প্রাণকেন্দ্র। 

লেখক: শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বদেশ প্রতিদিন/ কেআইকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  লালমাটির   বুকে   এক  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close