
বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরগুনাকে ডেঙ্গুর ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে। সরকারি হিসাবে, জেলার হাসপাতালগুলোতে এখন শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। অনেককেই ফ্লোরেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) দ্রুততম সময়ে বরগুনায় তাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে গত ১০ দিনে বরগুনার ৬টি উপজেলায় ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে ২০ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, তালতলী, বেতাগী, আমতলী ও বামনা উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এ সময় ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি, সরকারকে অতিরিক্ত ১ লাখ লিফলেট সরবরাহ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে ২৭ জুন থেকে শুরু হয় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বরগুনা সদর হাসপাতাল, পৌরসভা এলাকা, বাজার ও বাসস্ট্যান্ডে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।
বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৮ জন স্বেচ্ছাসেবক দুই শিফটে কাজ করছেন। তারা রোগীদের মশারি টাঙিয়ে দিচ্ছেন, হাসপাতাল পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করছেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরামর্শ দিচ্ছেন।
বরগুনা যুব রেড ক্রিসেন্টের উপ-যুব প্রধান মো. সজিব হোসেন বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য, বরগুনাকে ডেঙ্গুমুক্ত করা।
রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মসজিদে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বিডিআরসিএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরগুনায় তাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে। আগামী সপ্তাহে আরও ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানো হবে।
বরগুনা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে আসুন। বাড়িতে পানি জমিয়ে না রাখুন।
বরগুনা পৌরসভার বাসিন্দা শাহিনা আক্তার বলেন, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা আমাদের বাড়ি এসে ডেঙ্গু সম্পর্কে জানিয়েছেন। এখন আমরা সচেতন।
বিডিআরসিএস সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে বরগুনায় একটি মোবাইল মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে বরগুনায় ৫০০ এর বেশি নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২০ জনের বেশি।
বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে। তবে, এখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বদেশ প্রতিদিন /কেআইকে