জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ, অতঃপর...
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ৯:১৫ পিএম

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শনিবার (২৮ জুন) স্থানীয় দুর্গা মন্দিরে সংবাদ সম্মেলন করে জীবিত থাকার প্রমাণ দেন ভুক্তভোগী মা আশালতা হালদার।
ঘটনাটি ঘটেছে পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ আলী মোড়লের স্বাক্ষরে গত ৩১ মে স্মারক নং ৩৩৬/২০২৫ এর মাধ্যমে আশালতা হালদারকে মৃত দেখিয়ে তার ছেলে সত্যজিৎ হালদার একটি ওয়ারিশ কায়েম সনদ গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, আশালতা হালদারের তিন সন্তান—সত্যজিৎ, মুক্তি ও মমতা। সম্পত্তি এককভাবে ভোগের উদ্দেশ্যে ছেলে সত্যজিৎ মাকে মৃত দেখিয়ে কৌশলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। ঘটনার ব্যাপকতা বাড়লে গত ২০ জুন এক সালিশ বৈঠকে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আশালতা হালদার সংবাদ সম্মেলনে জানান, “আমি জীবিত থাকা সত্ত্বেও আমার ছেলে সত্যজিৎ সম্পত্তি লোভে আমাকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা ওয়ারিশ সনদ নিয়েছে। এতে আমি খুবই অপমানিত ও ক্ষুব্ধ। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” তিনি আরও জানান, এখন তিনি নিজ বসতঘরে ফিরতে পারছেন না এবং অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
আশালতার দুই মেয়ে মুক্তি সরকার ও মমতা বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ওয়ারিশ সনদ নিয়ে ঘরে তালা দিয়ে পলাতক রয়েছে সত্যজিৎ। এলাকাবাসীও জানান, আশালতার কোনো জায়গা নেই, তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী মোড়ল আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “হ্যাঁ, এটি আমার ভুল হয়েছে।”
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর মতে, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর