প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ৭:৩০ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদারসহ ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, কর ফাঁকির দুর্নীতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (২৯ জুন) বিকালে সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে,এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম, অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর অঞ্চল-৮ মির্জা আশিক রানা; বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন খান; যুগ্ম কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা; ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু।
এক প্রশ্নের জবাবে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ‘এনবিআরের কতিপয় অসাধু সদস্য ও কর্মকর্তা কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কর দাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায় না করে, তাদের (করদাতা) করের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে প্রতি বছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ঘুষ না পেয়ে কর ফাঁকির মিথ্যা মামলা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মালিকদের হয়রানি করেন বলে জানা যায়।’
দুদক কারও হাতিয়ার হয়ে কাজ করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করেই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।’
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ‘অনেক করদাতা আগাম কর দেন। আবার কেউ কেউ বেশি কর দেন। এই কর হিসাব-নিকাশ করার পর করদাতা যাদি অর্থ প্রদান করে থাকেন তাহলে তা ওই করদাতাকে ফেরত দিতে হবে এটিই নিয়ম। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, করের বাড়তি টাকা ফেরত পেতে আরো অন্তত অর্ধেক টাকা ঘুষ বা উপহারে খরচ হয়।’
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তারা করের টাকা ফেরত দিতে নিজেরাও কামিয়ে নিচ্ছেন মোটা টাকা। একইভাবে বিগত ২০-২৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্টেশনে চাকরিকালীন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক, ভ্যাট ও কর ফাঁকির সুযোগ করে দিয়ে ও নিজে লাভবান হয়ে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এরকম বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম