প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ২:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নেমেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নীতিমালা লঙ্ঘন, ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংক খাতকে ধ্বংসে ভূমিকা রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুই মেয়াদে সাত বছর গভর্নরের দায়িত্বে থাকা আতিউরের বিরুদ্ধে বিগত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করার অভিযোগও খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে গণমাধ্যমকে তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক গভর্নরের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন ঋণ কেলেঙ্কারি- যেমন: হলমার্ক, অ্যাননটেক্স এবং এস আলম গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা।
দুদক এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আগের দুই সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও ফজলে কবির, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান, আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও আবু ফারাহ মো. নাসের, বিএফআইইউয়ের সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস ও কাজী সায়েদুর রহমানের দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
পটপরিবর্তনের পর সাবেক গভর্নর আতিউরের বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুদক জনতা ব্যাংকে অ্যাননটেক্সের ঋণ জালিয়াতি করে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে।
এতে ওই সময় জনতা ব্যাকের চেয়ারম্যান আবুল বারাকাতকেও আসামি করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দশম গভর্নর হিসেবে চার বছরের জন্য দায়িত্ব পান আতিউর রহমান। এরপর তাঁকে আরো এক মেয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২ আগস্ট তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সমালোচনার মুখে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম