প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম আপডেট: ২৫.০৬.২০২৫ ৯:৫৫ PM

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি অনুসন্ধানী দল এ স্থানে জরিপ পরিচালনা ও খননকার্য পরিচালনা করেন।
নওগাঁর পত্নীতলায় ধামইরহাট পত্নীতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে আমবাটি নামক স্থানে গত ৪৯ বছর আগে উৎকৃষ্ট মানের চীনামাটি ও রুপার সন্ধান পওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত তা উত্তোলনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খনিজ নিদর্শনগুলো।
অনুসন্ধান ও এলাকার প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি শক্তিশালী অনুসন্ধানী দল এ স্থানে জরিপ পরিচালনা ও খননকার্য পরিচালনা করেন। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট গভীরে শত শত স্টিলের পাইপ বসিয়ে তারা এ খনন কার্য পরিচালনা করেন। এ জরিপ ও খনন কার্যক্রম সে সময় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ চরমভাবে দানা বেঁধে উঠতে শুরু করলে ক্রমান্বয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সরকারের আমলেই এই খনির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। দেশের খনিজ মানচিত্রে এ খনিটি একটি বিন্দু হয়ে আছে মাত্র।
খনি এলাকার জমির মালিক আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা গভীর রাতে বিকট আওয়াজ এর শব্দ শুনতে পেতাম। আমরা তখন ছোট ছিলাম। কেই যেন খনির আশেপাশে আসতে না পারে সেজন্য বিদেশি দারোয়ান রেখে দিতো। এলাকার কোন লোককেই সেখানে ঢুকতে দেওয়া হতো না। তারা কি তুলে নিয়ে যেতো এটা কেউ দেখতে যেন না পারে এই জন্য তারা লুকিয়ে নিয়ে চলে যেতো। তারপর হঠাৎ একদিন তারা সব কিছু রেখে চলে গেলো।”
খনি এলাকার বাসিন্দা আলী মোল্লা বলেন, “খনিজের স্থানটি খননকার্য চলাকালে প্রায় শতাধিক দেশি-বিদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে কর্মরত ছিলেন। খনন কার্যক্রমের সময় কালো ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত মাটির মতো এক ধরনের পদার্থ উঠে আসতো। কর্মকর্তাগণ রাতের আধারে এসে পদার্থ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে জিপ গাড়ি করে কোথায় যেন নিয়ে যেতেন। খননকৃত এলাকাটি কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিলো। এ কার্যক্রম চলাকালে তারা তাদের নিজস্ব জেনারেটর ব্যবহার করতো, আর এই আলো আশেপাশের গ্রামগুলোও আলোকিত হয়ে উঠতো। এছাড়া খনিকে কেন্দ্র করে আমবাটি মোড়ে একটি বাজারও গড়ে উঠেছিল যা এখন পর্যন্ত চলমান। এ জরিপ টিমটি প্রায় ১০ বছর এ কার্যক্রম চালায়। ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে খননকারীরা কূপের স্থানটি বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে খনির স্থানটি।”
স্থানীয়রা বলেন, “বর্তমানে স্মৃতি পিলারগুলো আবাদি জমির মাঝখানে হওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হয়। এ কারণে জমির মালিকরা একাধিকবার সেগুলো ভাঙার চেষ্টা করেন। কিন্তু পিলারগুলো অনেক শক্ত হওয়ার কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের আশঙ্কা এ স্মৃতি চিহ্নগুলো একদিন হারিয়ে যাবে।”
প্রবীণ শিক্ষাবিদ কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়ি ডাকবাংলোর পাশেই। খনির খননকাজ চলাকালে ডাকবাংলোতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিবারসহ বসবাস করতেন। তাদের বেশির ভাগই ছিলো বিদেশি।”
তিনি আরো বলেন, “এ স্থানটিসহ একই ইউপির চকনিরখিন মোড় ও গাহন মৌজায় ২ টি স্থানের একই সময় জরিপ ও খননকার্য চালানো হয়। তবে তার কোন স্মৃতি চিহ্ন বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যায় না। বরেন্দ্র এলাকার অজপাড়া গাঁয়ে এ খনিটির অবস্থান হওয়ায় প্রচার মাধ্যম ও ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের নজরে এটি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। তবে পত্নীতলার এই উৎকৃষ্ট মানের চীনামাটি উত্তোলন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।”