প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ৯:২০ পিএম আপডেট: ২১.০৬.২০২৫ ৯:২৫ PM

নোয়াখালী হাতিয়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়া দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সালেহ উদ্দিনের (৪৫) বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত স্বামী সালেহ উদ্দিন (৪৫) সোনাদিয়া মাইজচরার ২-নং ওয়ার্ডের নুরুল হকের ছেলে। সে পেশায় একজন ইট ভাটার শ্রমিক।
গত শুক্রবার (২০ জুন) রাতে হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। আহত গৃহবধূকে শনিবার বিকেলে পুলিশ ও পরিবারের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই সালেহ উদ্দিন স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সালেহ উদ্দিন নিজের বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে স্ত্রীকে খাটের পায়ায় বেঁধে নির্মমভাবে প্রহার করেন। এরপর তার গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করেন।
স্ত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাকে উদ্ধার করে। তবে পরিবার সকালে তাকে হাসপাতালে নিতে গেলে সালেহ উদ্দিনের পরিবার বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ভুক্তভোগী নারীকে ।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইউসুফ সোহাগ বলেন, ‘সিনিয়র নার্স দিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে- আহত নারীর গোপনাঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ভুক্তভোগী নারীর বাবার অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জামাই নানা সময়ে টাকা-পয়সা চেয়ে নির্যাতন করত। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার মতো দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশও হয়েছে। কিন্তু এবার যা করেছে, তা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।’
জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, ‘নির্যাতনের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম