
প্রকৃতি যেন নিজেই এক রহস্যময় গবেষণাগার। এখানে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে, যাদের নেই চোখ, কান কিংবা নাক- তবুও তারা দিব্যি টিকে আছে, বেড়ে উঠছে এবং বংশবিস্তার করছে। আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি এক অনন্য জৈব অভিযোজন বা evolutionary adaptation। চলুন, পরিচিত হই এমন কিছু প্রাণীর সঙ্গে, যারা আমাদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
প্ল্যানারিয়ান (Planarian)এই ছোট, সমতল দেহের কেঁচোর মতো প্রাণীর কোনো চোখ নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটি তার শরীরের যে কোনো অংশ থেকে নিজেকে পুনরায় সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্ক ছাড়াও এরা আলো ও গন্ধ অনুভব করতে সক্ষম, যা একধরনের 'নিউরাল সেন্সিং'-এর মাধ্যমে সম্ভব হয়।
দীপ সমুদ্রের অক্টোপাস (Deep-sea Octopus)গভীর সমুদ্রের অনেক অক্টোপাসের চোখ থাকলেও, তা প্রায় অকার্যকর। কারণ সেখানে আলো নেই। তাই তারা মূলত স্পর্শ, পানির তরঙ্গ ও রাসায়নিক সংকেতের উপর নির্ভর করে চলাফেরা ও শিকার করে।
ব্যাকটেরিয়াব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী জীব। নেই চোখ, কান, নাক বা মস্তিষ্ক। তবুও পরিবেশের তাপমাত্রা, পিএইচ লেভেল ও রাসায়নিক উপস্থিতির প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম। তারা ‘কেমোট্যাক্সিস’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গন্ধ বা রাসায়নিক দ্রব্যের দিকে আকৃষ্ট হয়।
কিছু অন্ধ সাপ (Blind Snakes)নাম শুনেই বোঝা যায়, এদের চোখ নেই বা চোখ থাকলেও তা ত্বকের নিচে ঢাকা থাকে এবং দৃষ্টিশক্তি নেই বললেই চলে। এরা মূলত গন্ধ ও কম্পন অনুভব করে চলাফেরা করে এবং শিকার করে।
কেভ ফিশ (Cave Fish)
গুহায় বসবাসকারী মাছের মধ্যে বেশিরভাগের চোখই জন্মগতভাবে অনুপস্থিত বা অবিকশিত। কারণ এদের আবাসস্থলে কোনো আলো পৌঁছে না। চোখের বদলে এদের ত্বক বা দেহে বিশেষ সংবেদনশীল কোষ থাকে, যা জলচলন ও আশপাশের গতিবিধি শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞান বলছে, পরিবেশ অনুযায়ী প্রাণীদের দেহে সময়ের সঙ্গে নানা পরিবর্তন আসে। যেখানে আলো নেই, সেখানে চোখ থাকার দরকার পড়ে না। আবার যেখানে শব্দের প্রতিধ্বনি নেই, সেখানে কান অপ্রয়োজনীয়। ফলে এসব অঙ্গ অবলুপ্ত হয়ে যায় এবং বিকল্প উপায়ে টিকে থাকার দক্ষতা তৈরি হয়।
যাদের আমরা অক্ষম ভাবি, প্রকৃতি তাদের দিয়েছে অন্যরকম ক্ষমতা। চোখ, কান, নাকের বাইরে একটি বিস্ময়কর বাস্তবতা হলো—জীবন বেঁচে থাকার পথ ঠিকই খুঁজে নেয়। আর সে পথ আমাদের চেনা নিয়মের বাইরেও বিস্ময়করভাবে সুন্দর।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম