প্রকাশ: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ১:৪৭ পিএম আপডেট: ১৪.০৬.২০২৫ ২:০৭ PM

ছবি: এআই
ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বাস্তব জীবনে ইশারায় সালাম দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ দূরে থাকলে হাত নাড়িয়ে বা মাথা ঝাঁকিয়ে সালাম জানিয়ে দেন অনেকে। অথচ ইসলামি শরিয়তে এভাবে ইশারায় সালাম দেওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দিতে হয় এবং ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’ বলে সালামের উত্তর প্রদান করতে হয়। আসসালামু আলাইকুম অর্থ আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’ অর্থ আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।
সালাম স্পষ্ট ও শুদ্ধভাবে দিতে হবে। সালামের বিকৃত উচ্চারণে সুফল পাওয়া যায় না। বরং তা গোনাহের কারণ হয়।
কিন্তু আমাদের সমাজের অনেককেই দেখা যায় যে, তাদের সালাম দিলে তারা মুখে জবাব দেন না; বরং মাথা কিংবা হাত নাড়িয়ে সালামের উত্তর দেন। এমনকি অনেকে কাউকে শুধু হাতের ইশারার মাধ্যমে সালাম দেন- মুখে কিছু বলেন না।
ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- শুধু ইশারার মাধ্যমে সালামের আদান-প্রদান করা শরিয়তসম্মত নয়। সালাম আদান-প্রদানের সঠিক পদ্ধতি হলো, মৌখিকভাবে উচ্চারণ করে সালাম দেওয়া। সালাম কোন শব্দে দিবে এবং কীভাবে দিবে তা একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এ ব্যাপারে কোরআনে কারিমেও নির্দেশনা এসেছে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হয় তোমরা জবাব দাও তার চেয়ে উত্তম পন্থায় অথবা উত্তরে তাই বল। -সূরা আন নিসা: ৮৬
রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেন, “তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।” (মুসলিম: ৫৪)। তিনি কখনও হাতের ইশারায় সালাম দেননি, বরং মুখে "আসসালামু আলাইকুম" বলেই সালাম প্রদান করতেন।
ইসলাম বিশ্লেষকদের মতে, ইশারায় সালাম দেওয়ার এই প্রবণতা ধর্মীয় মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করছে এবং তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। মুসলিম সমাজে সালামের মূল চেতনা—পরস্পরের জন্য শান্তি, দোয়া ও সৌহার্দ্য—মুখে উচ্চারণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর