
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর স্বল্প পরিসরে আবার চালু হয়েছে বহির্বিভাগ। তবে হাসপাতালের ইনডোর (ভর্তি ও ওয়ার্ড পরিষেবা) কার্যক্রম এখনো বন্ধ রয়েছে, ভবনের একটি অংশ এখনো দখল করে রেখেছেন জুলাইয়ের আহতদের একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক, নার্স ও কিছু স্টাফ হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। যদিও তাদের অধিকাংশের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিরাজমান। হাসপাতালে এখনো চতুর্থ তলা তালাবদ্ধ এবং সেখানে জুলাই আহতরা অবস্থান করছেন। এই অংশে প্রবেশ সম্ভব হয়নি, তাদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ হয়নি।
গত ২৮ মে কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। ওইদিনই রোগী ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যরা হস্তক্ষেপ করলে শুরু হয় হাতাহাতি ও মারামারি।
চিকিৎসক, রোগী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার একপর্যায়ে ভবনের ভেতরে থাকা জুলাই আহতরা লাঠি ও রড নিয়ে হামলায় অংশ নেন, পরে তাদের সঙ্গে পঙ্গু হাসপাতালের আহতরাও যোগ দেন।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন চিকিৎসক ও কর্মী আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজন গুরুতর। পরে সেনাসদস্যদের হস্তক্ষেপে ভেতরে আটকা পড়া চিকিৎসকদের উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং জুলাই আহতরা ভবনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন।
আজ বহির্বিভাগ খুললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা এসেছি, তবে শঙ্কা কাটেনি। দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নিয়মিত কাজ করব।’
এদিকে ইনডোরে থাকা আহতদের অবস্থানে কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, তারা (জুলাই আহতরা) এখনো চতুর্থ তলায় অবস্থান করছেন, বাইরের কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।
চিকিৎসাসেবা আংশিক চালু হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত অপারেশন বাতিল হওয়া রোগীদের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলেও, আজ সকালে আবারও কিছু সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
আপাতত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আহতদের জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছে, কিন্তু হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রশাসনের হাতে পুরোপুরি আসেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে পূর্ণ আস্থা ফিরছে না।
জাতীয় একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘ সময় অচল হয়ে থাকা ও দখল থাকার নজির অভূতপূর্ব। সাধারণ রোগীদের দাবি— দ্রুত হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক, অন্যদিকে চিকিৎসকদের দাবি, নিরাপত্তা ছাড়া দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত হলেও আজকের আংশিক সেবা চালুর মধ্য দিয়ে আশার আলো দেখছেন অনেকে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম