
কুরবানির ঈদে পশু জবাই ও গোশত ব্যবস্থাপনায় কিছু সাধারণ ভুল অজান্তেই বড় ধরনের অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ রাক্বী রাহাত আল আহনাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিমদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
হাড় পানিতে ফেলা— জ্বীনদের খাদ্য নষ্টের আশঙ্কা
ঈদুল আজহার সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই মাংস রান্না ও খাওয়া হয়, আর খাওয়া শেষে সাধারণত হাড় ফেলে দেওয়া হয়। তবে অনেকেই হাড়গুলো পানিতে ফেলে দেন বা হাড় রাখা পাত্রে পানি ঢেলে দেন, যা ইসলামি দৃষ্টিতে অনুচিত।
রাহাত আল আহনাফ হাদীস উদ্ধৃত করে বলেন, “তোমরা গোবর ও হাড় দ্বারা ইস্তিঞ্জা করো না, কারণ এগুলো তোমাদের জ্বীন ভাইদের খাদ্য।”- সহীহ মুসলিম: ৪৫০, সহীহ বুখারী: ৫৭৬
হাদীস অনুযায়ী, হাড় জ্বীনদের রিযিক হিসেবে বিবেচিত। পানিতে ফেলে দিলে তা নষ্ট হয়, যা জ্বীনদের অসন্তুষ্ট করতে পারে এবং তাদের ক্ষোভ ডেকে আনতে পারে। এর ফলে জাদু, রোগ-ব্যাধি বা ঘরোয়া অশান্তির আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।
মাংসের তেলের গন্ধ— জ্বীনদের আকৃষ্ট করতে পারে
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো মাংস খাওয়ার পর ব্যবহৃত তোয়ালে বা গামছা থেকে ঝাঁজালো তেলের গন্ধ ছড়ানো। বিশেষ করে পোড়া চর্বি বা বাসি তেলের গন্ধ জ্বীনদের আকৃষ্ট করতে পারে।
রাহাত আল আহনাফ বলেন, অনেক সময় মাংস খাওয়ার পর হাত পরিষ্কার না করে তোয়ালে দিয়ে মোছা হয়, এবং সেটি পরে কেউ মুখ বা শরীর মোছার জন্য ব্যবহার করলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যদিও এই বিষয়ে সরাসরি সহীহ হাদীস নেই, তবে ইসলামী চিকিৎসাশাস্ত্র ও প্রাচীন অভিজ্ঞতা অনুসারে এ ধরনের গন্ধ জ্বীনদের কাছে প্রিয় বলে মনে করা হয়।
করণীয়
-হাড় যেন কখনো পানিতে না ফেলা হয়, বরং শুকনো বা নিরাপদ জায়গায় ফেলা উচিত।
-মাংস খাওয়ার পর ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে ফেলা বা আলাদা রাখা এবং হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা উত্তম।
রাহাত আল আহনাফের আহ্বান— “কুরবানির আনন্দের মধ্যে যেন কোনো অদৃশ্য বিপদ ঘরে প্রবেশ না করে। পরিবারকে সতর্ক করুন, এবং এই বার্তা ছড়িয়ে দিন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর