আ. লীগ নেত্রীর সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার সেই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫, ৪:২৩ পিএম আপডেট: ০৫.০৬.২০২৫ ৪:৫৯ PM

সহকারী পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান
পরিত্যাক্ত একটি বাড়িতে জামরুল কুড়াতে গিয়ে মাদ্রাসা ছাত্র মামার ধূমপান করা দেখে ফেলে শিশুশ্রেণী পড়ুয়া লামিয়া। পরবর্তীতে এটিই হয় তার মৃত্যুর অন্যতম এবং প্রধান কারণ।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকালে সহকারী পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান জানান, ৩ জুন দুপুরে উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের ছোট বিন্নাদাইর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেত্রীর পরিত্যক্ত বাড়িতে জামরুল কুড়াতে যায় শিশু লামিয়া। ঐ বাড়ির রান্নাঘরে বসে ধূমপান করছিল লামিয়ার চাচাতো মামা মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরাফাত হোসেন (১৫)। ধূমপান করতে দেখে লামিয়া তার নানাকে বলে দেয়ার কথা বললে আরাফাত লামিয়ার মুখ চেপে ধরে। এসময় লামিয়া জ্ঞান হারালে মুখের মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে দেয় আরাফাত। পরে বাড়ি থেকে স্কচটেপ হাত বেধে মুখে পেচিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় লামিয়া নড়াচড়া না করায় বুঝতে পারে মারা গেছে। তখন বাড়ির সেফটিক ট্যাঙ্কে লাশ ফেলে দিয়ে বাড়িতে চলে যায় আরাফাত।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের ছোট বিন্নাদাইর গ্রামের ইউনুস আলীর পুত্র মো. আরাফাত বাঘাবাড়ি সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্র এবং নিহত লামিয়ার সম্পর্কে মামা।
পুলিশ সুপার আরো জানান, গতকাল বুধবার ৪ জুন ভোরে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে পুলিশ। এদিন নিহত লামিয়ার বাবা মো. নাজিম সরকার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ সন্দেহভাজন আরাফাতকে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলে হত্যার কথা স্বীকার করে।
জানা যায়, ৩ জুন মঙ্গলবার বিকালে নানা আব্দুর রশীদের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় লামিয়া। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পরও লামিয়াকে না পাওয়ায় ঐদিন রাত ৮টার দিকে শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। পরে শাহজাদপুর থানার ওসি মো. আছলাম আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোর ৪ টার দিকে বিন্নাদাইর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেত্রী রূপার পরিত্যাক্ত বাড়ির সেপ্টিক ট্যাঙ্ক থেকে লামিয়ার লাশ উদ্ধার করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস