পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত আদায়ের লক্ষ্যে
দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দান এবং
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়েছে সব প্রস্তুতি। এই দুইটি উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান। ঈদ আয়োজনে এখানে বসানো হয়েছে অসংখ্য মাইক। ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত অজুখানা ও পানির।
ঈদগাহ ময়দানে শুধু জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন মুসল্লিরা। শনিবার (৭ জুন) অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত।
বুধবার (৪ জুন) বেলা ১১টায় শোলাকিয়া পরিদর্শন শেষে ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান।
তিনি জানান, শোলাকিয়া ময়দানে সকাল ৯টায় ঈদুল আজহার ১৯৮তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পরিমাণে অজুর পানি এবং ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সাথে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য থাকবে মেডিকেল ক্যাম্পও।
তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ ওয়াচ-টাওয়ার ও মাঠের আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক সিসিটিভি। এছাড়াও দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ লাইনে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস চলাচল করবে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) কাজেম উদ্দীন বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তা ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতিটি গেটে থাকবে আর্চওয়ে। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোও নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নেই।
ওয়াচ-টাওয়ারে স্বয়ংক্রিয় স্নাইপার রাইফেল থাকবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার আশরাফুল কবির। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেবে বেশকিছু প্যাট্রোল কার।
বুধবার (৪ জুন) দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দিনাজপুরে গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন কয়েক দফা প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। ঈদগাহ মাঠ নামাজের উপযোগী এবং দৃষ্টিনন্দন করতে মাঠ সংস্কার ও রংসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।
মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান, ঈদগাহ মাঠজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠ এলাকায় তিনটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
মুসল্লিদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে যাতায়াত ও নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন। এছাড়াও ৩৫০ জন পুলিশ সদস্য, সাদা পোশাকে ডিবি এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় থাকবে পুলিশ মোতায়েন।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি