প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫, ১২:৩৮ AM

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় এবার লঞ্চপথে স্বস্তি ফিরেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। তবে যাত্রী সংকটে লঞ্চ মালিকরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় হতাশ।
সদরঘাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোতে কিছুটা যাত্রী থাকলেও বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা রুটের লঞ্চগুলো অনেকটাই ফাঁকা। লঞ্চ শ্রমিকরা যাত্রী আকর্ষণে হাকডাক করলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না।
সুন্দরবন -১২ এর কর্মচারী ইসরাফিল জানান, “সারা বছর তেমন যাত্রী থাকে না। ঈদে কিছু যাত্রী হয়। এবারও আমরা সেই আশায় প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি যাত্রী আরও বাড়বে”
লঞ্চ মালিকরা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নদীপথে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যানজটের কারণে যাত্রীরা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রতিটি লঞ্চে ৪ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী সদরঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
যাত্রীরা লঞ্চপথে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সুন্দরবন-১২ লঞ্চের যাত্রী সানাউল হোসেন সৈকত বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পরও আমাদের বরিশালের মানুষ ঈদে পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চে যেতে পছন্দ করে। এই সময় বাসে ভাড়া বেশি থাকে। তাই বেশিরভাগ মানুষ স্বস্তির যাত্রার জন্য সড়ক ছেড়ে নৌপথ বেছে নেয়।”
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদযাত্রায় লঞ্চপথে যাত্রীদের স্বস্তি থাকলেও, যাত্রী সংকটে লঞ্চ মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর