প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ৯:২৫ AM

চুল পড়া নিয়ে উদ্বেগ আর সর্বত্র হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের দৃষ্টিনন্দন বিজ্ঞাপনের প্রলোভন- এই যুগে অনেকেই যাচ্ছেন সার্জারির পথে। কিন্তু সঠিক প্রক্রিয়া ও যোগ্য চিকিৎসক বেছে না নিলে এর ফলাফল হতে পারে প্রাণঘাতী।
সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
সংবাদ প্রতিবেদনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চুল প্রতিস্থাপনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই প্রকৌশলী বিনীত কুমার দুবে এবং প্রমোদ কাটিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় অভিযুক্ত দাঁতের চিকিৎসক অনুষ্কা তিওয়ারি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারির সুরক্ষা ও বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে।
বিনীত কুমারের স্ত্রী জয়া ত্রিপাঠী থানায় জানান, তার স্বামী ১৩ মার্চ অস্ত্রোপচার করান এবং ১৫ মার্চ মৃত্যু হয়। অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসক অনুষ্কা জানতেন যে বিনীত হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, তবুও সেই ঝুঁকি উপেক্ষা করে অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পরপরই বিনীত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তার মস্তিষ্কে ফোলাভাব ও সংক্রমণ দেখা দেয়।
জয়া ত্রিপাঠী আরও অভিযোগ করেন, শুরুতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, পরে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অভিযোগ দায়ের হয়।
সরকারি আইনজীবী দিলীপ সিং বলেন, ‘অনুষ্কা তিওয়ারির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একজন দাঁতের চিকিৎসক হয়েও তিনি চুল প্রতিস্থাপনের মতো অস্ত্রোপচার করেছেন, যার পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের কাছে আছে। কাকাদেব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অনুষ্কা তিওয়ারি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।’
তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসক অনুষ্কা তিওয়ারির বিরুদ্ধে বহু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। যেমন, অস্ত্রোপচারের আগে তিনি কোনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাননি। চিকিৎসার পর বিনীতের মাথায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছিল বলেও দেখা গেছে। তদন্তকারীরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের মতো দেশে অব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিচালিত হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট ইন্ডাস্ট্রির নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও ঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম