প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫, ৫:১৭ পিএম

পৌর এলাকাজুড়ে যেন খানা-খন্দের (ভাঙ্গাচোরা) রাজত্ব। বৃষ্টির মৌসুমে এই রাস্তাগুলো রূপ নেয় জল-কাদায় ভরা ফাঁদে। পৌরসভার সামনেই নেই সঠিক ড্রেনেজ, যা প্রশাসনের উদাসীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ।
পৌর কর নিয়মিত পরিশোধ করেও নাগরিকরা পাচ্ছেন না ন্যূনতম সেবা। রাস্তা-ঘাট ভাঙা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল বা নেই বললেই চলে, এমনকি কিছু পৌরসভার সামনে পর্যন্ত নেই ড্রেন। উন্নয়ন কার্যক্রমে বাস্তবতা ও প্রয়োজনের প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। সচেতন মহল বলছে, সেবার নামে প্রহসন না করে, প্রয়োজন বাস্তব ভিত্তিক সর্বজনীন উন্নয়ন। ঝিনাইদহের ৬টি পৌরসভার চিত্র এমনই। পৌরসভা গুলো যেন নাগরিক ভোগান্তির প্রদর্শনী।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর কোনো সড়ক সংস্কার হয়নি। বিদ্যুৎ থাকলেও অনেক স্থানেই নেই সড়কবাতি। রাত নামলেই গোটা শহর ডুবে যায় অন্ধকারে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সবকিছুতেই চরম অব্যবস্থাপনা। জেলার ৬টি পৌরসভা মধ্যে ৫টিই প্রথম শ্রেণীর। অথচ নাগরিক সেবায় নেই প্রথম শ্রেণীর ছাপ।
নাগরিকরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সেবাও যেন এরচেয়ে অনেক ভালো! নাগরিক অধিকার আর কর দেয়ার দায় একপাশে থাকলেও পৌর প্রশাসনের দায়হীনতা যেন সীমা ছাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই পৌরসভাগুলো কি কেবল নামেই পৌরসভা, না কি কেবল কর আদায়ের যন্ত্র? প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ এসব পৌরসভায় বসবাস করলেও অধিকাংশই প্রতিনিয়ত ভোগেন নানা সমস্যায়।
হরিনাকুন্ডুর স্থানীয় রাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন রাস্তায় চলতে গিয়ে পায়ে কাদা লাগে, কেউ কেউ পড়ে গিয়ে আহতও হয়। বছরের পর বছর একই অবস্থা। কর দেই, কিন্তু সেবা কোথায়?’ মহেশপুরের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া দায়। চারপাশে অন্ধকার, রাস্তার অবস্থাও করুণ। পৌরসভার লোকজন শুধু কর তুলতে জানে, কিন্তু কাজের সময় তাদের পাওয়া যায় না।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘পৌরসভাগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়। ইতিমধ্যে প্রশাসকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস