প্রকাশ: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫, ১২:৩৫ AM

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বরখাস্ত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত কিছু সাবেক সেনাসদস্যের বিক্ষোভ এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরার প্রেক্ষাপটে আইএসপিআর (আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর) একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে জানানো হয়, রোববার (১৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় চাকরিতে পুনর্বহাল, শাস্তি মওকুফ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ নানা দাবি নিয়ে সাবেক সেনাসদস্যরা বিক্ষোভ করেন। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বক্তব্য শোনেন।
প্রতিনিধি দল আশ্বাস দেন, সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসারে দাবি যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়, অভিযোগ বা দাবি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করাই অধিকতর যৌক্তিক এবং কার্যকর হবে, কোনো তৃতীয় পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নয়।
আইএসপিআরের পক্ষ থেকে রাতে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে ৮০২টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেনাবাহিনী এই বিষয়গুলো সর্বোচ্চ মানবিকতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তবে রোববারের ঘটনাকে ঘিরে আইএসপিআর দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, দিনের শেষভাগে কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, যা সুশৃঙ্খল বাহিনীর ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে সেনা প্রতিনিধিদল ফিরে যাওয়ার সময় কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল বরখাস্ত সদস্য উসকানিমূলক আচরণ করেন, গাড়ির পথ রুদ্ধ করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন ও অশ্রাব্য স্লোগান দেন।
আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সারাদিন ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং কিছু বিশৃঙ্খল ব্যক্তিকে ছত্রভঙ্গ করা হয়।
বিবৃতিতে সেনাবাহিনী পুনরায় সকলকে সতর্ক করে জানায়, যেকোনো উসকানিমূলক কিংবা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী কার্যক্রম অনাকাঙ্ক্ষিত এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধান, শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে অনুরোধ জানানো হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর