প্রকাশ: শনিবার, ১০ মে, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম আপডেট: ১০.০৫.২০২৫ ৮:০৫ PM

পাকিস্তানের লাহোরের নিষিদ্ধপল্লী হীরামাণ্ডি থেকে উঠে এসে ষাট ও সত্তরের দশকে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র অঙ্গনে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন এক নারী- অভিনেত্রী নার্গিস বেগম। অল্প সময়েই হয়ে উঠেছিলেন দেশের সবচেয়ে পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত আইটেম কন্যা। তবে তার এই খ্যাতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নিজের মায়ের চক্রান্তেই স্বামীর হাতে খুন হন তিনি।
নার্গিসের জন্ম লাহোরের হীরামাণ্ডিতে। তার মা ছিলেন যৌনকর্মী ও দক্ষ নৃত্যশিল্পী। শৈশব থেকেই নাচ-গানে পারদর্শী হয়ে ওঠেন নার্গিস। একদিন মুজরার আসরে তার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হন এক চলচ্চিত্র প্রযোজক, যিনি তাকে বড় পর্দায় সুযোগ করে দেন।
১৯৬৪ সালে ‘ইশরাত’ নামে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নার্গিস। এরপর শতাধিক সিনেমায় কাজ করেন, অধিকাংশে ছিলেন আইটেম গানে। একসময় হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া নারী অভিনয়শিল্পী।
১৯৭১ সালে ‘কাসু’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রযোজক খাজা মাজহারের সঙ্গে প্রেমে জড়ান এবং পরে বিয়ে করেন। তবে এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তার মা। কারণ, নার্গিস ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং মা চাইতেন না মেয়ে হীরামাণ্ডি ছাড়ুক।
মায়ের অসুস্থতার ভুয়া খবর পেয়ে নার্গিস হীরামাণ্ডিতে ফিরে যান। সেখানেই একদিন স্বামী মাজহার গিয়ে তাকে বাড়ি ফেরাতে চাপ দেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই নিহত হন নার্গিসসহ আরও তিনজন। পরে মাজহারকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
নার্গিসের মৃত্যু আজও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগায়- তিনি কি স্বামীর হাতে খুন হন, নাকি মায়ের ষড়যন্ত্রেই এই পরিণতি?
সবকিছু পেয়েও, শেষতক কিছুই রাখতে পারেননি নার্গিস। তার জীবনের এই করুণ অধ্যায়ই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলিউড নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালিকে। তার নির্মিত আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘হীরামাণ্ডি’-তে উঠে এসেছে হীরামাণ্ডির যৌনকর্মীদের জীবনযন্ত্রণা, যা অনেকাংশেই নার্গিস বেগমের জীবনকাহিনির ছায়া বহন করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম