প্রকাশ: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ৭:৪০ পিএম

উজানের পানির চাপে ভোলার মেঘনায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে মাছ ঘাট, শত শত ঘরবাড়ি, বাজার ও মসজিদসহ বহু মাছের ঘের। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে নদী ভাঙ্গুলী পাড়ের মানুষ। স্লুইস গেট এলাকায়
সম্প্রতি ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এনামুল হক। শনিবার শিবপুর ইউনিয়নের মাছঘাট ও স্লুইস গেট এলাকায় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান।
স্থানীয়রা জানান, নদীর ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। বেঁরী বাঁধ থেকে নদী মাত্র ১শ ফুট দুরে রয়েছে। ফলে বেঁরী বাঁধ ভেঙ্গে গেলে অতি জোঁয়ার ও স্রোতে ভেসে যাবে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেঁরী বাধের কাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ, এটি যে কোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে।
ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের স্লুইস গেট পয়েন্টে যে মাছ ঘাট রয়েছে সেখান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখন ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং তা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। নদী ভাঙ্গন রক্ষায় যে প্রকল্প পাঠিয়েছি তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ভোলা খাল সচল রাখতে খাল খনন ও প্রশস্থকরন এবং স্লুইস গেটটি আরও আধুনিক করতে ৬৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে কাজ শুরু করা হবে।’
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘শিবপুর ইউনিয়নটি মেঘনা নদীর তীরবর্ত্তী। বেঁরী বাঁধ থেকে নদীর দুরত্ব ৬০ থেকে ৭০ মিটার। বর্তমানে এ এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধে ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মানের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৬০ মিটার দৈর্ঘ্য নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এটার মাধ্যমে আমরা সাময়িক ভাবে ভাঙ্গন রোধ করতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সচিব নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে নদী ভাঙ্গন সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম