
কিশোরগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অন্তত ৭৩ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার ছাত্র রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মিয়া এবং এক সংগঠককে বহিষ্কার করে সংগঠনের আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন ও সদস্য সচিব ফয়সাল প্রিন্স স্বাক্ষরিত একটি বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়। এখানে 'সাংগঠনিক নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যক্রম' এর অভিযোগ আনা হয়। তবে বহিষ্কৃত মামুন মিয়া দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অডিও রেকর্ডটি ভুয়া এবং এটি তার সুনাম ক্ষুন্ন ও নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র মাত্র।
বহিষ্কার আদেশের প্রতিবাদে সংগঠনের ৮ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, ৮ জন যুগ্ম সদস্য সচিব, ৫ জন সংগঠক, স্বাস্থ্য সেলের ২ জন এবং ৫০ জন সাধারণ সদস্য পদত্যাগ করেন। তাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বর্তমান নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাবুন কারিকা তার পোস্টে লিখেন, এই অনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের প্রতি তীব্র নিন্দা ও অনাস্থা জানাই। এটি ব্যক্তিস্বার্থের বহিঃপ্রকাশ এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক চর্চার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।
আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফ আব্দুল্লাহ মানার লিখেছেন, সংগঠন করেছিলাম শোষণের বিরুদ্ধে আজ দেখি শোষকই নেতৃত্বে।
সংগঠক শারমিন আক্তার মিতু বলেন, দায়িত্বশীলদের অযৌক্তিক ও তদন্তবিহীন সিদ্ধান্তে আমি হতবাক। তাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।
স্বাস্থ্য সেলের সদস্য মির্জা তোফাজ্জল লিখেছেন, যেখানে বিপ্লব নেই, সেখানে আমরাও নেই। "ইনকিলাব জিন্দাবাদ"
বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মিয়া তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, যে সংগঠন গড়েছিলাম শোষণের বিরুদ্ধে, আজ সেখানেই ষড়যন্ত্রের উৎসব। পদাধিকারকে ঢাল বানিয়ে বিতর্কিত কাজ করে, এখন বাঁচতে চাইছে ভুয়া অডিও ছড়িয়ে। কিন্তু আমরা রক্ত দিয়েছি, ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করিনি।
তবে সংগঠনের আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার অডিও-ভিডিও প্রমাণও আছে। তাই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পদত্যাগের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিকর।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুপারিশে লিখিত কিছু সহায়তা নেয়ার আবেদন করেছিল, তবে তা কোনোভাবেই চাঁদাবাজি নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস