প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫, ৩:৩৮ পিএম

সাধারণ মানুষের করজটিলতা কমাতে সঞ্চয়পত্রসহ অন্তত ১০টি সেবায় আয়কর রিটার্ন (পিএসআর) দাখিলের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ফলে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে পাঁচ লাখ টাকা বা তার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে আর রিটার্ন জমা দিতে হবে না। সহজ হচ্ছে ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত খোলা কিংবা পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণের প্রক্রিয়াও।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, যেসব ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাস্তবিক প্রয়োজন নেই, সেসব সেবায় বাধ্যতামূলক পিএসআর তুলে নেওয়ার চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। এসব সেবার ক্ষেত্রে শুধু টিআইএন থাকলেই যথেষ্ট হবে।
বর্তমানে দেশে মোট ৪৫টি সরকারি-বেসরকারি সেবা নিতে হলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে: সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানত খোলা, পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ফ্ল্যাট বা জমি রেজিস্ট্রি, মোটরযান নিবন্ধন, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ ইত্যাদি।
কর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব জায়গায় পিএসআর দাখিলের প্রয়োজন নেই, আমরা সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
এই উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক সদস্য ড. সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, ‘যাঁদের প্রকৃতপক্ষে করযোগ্য আয় নেই, বিশেষ করে বিধবা ও স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য এটি হবে একটি বড় সুবিধা।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় শুধুমাত্র কিছু সেবা পাওয়ার জন্য মানুষকে শূন্য রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য করা হতো, যা বাস্তবিক অর্থে অর্থহীন এবং হয়রানির নামান্তর। এনবিআরের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে।’
উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৮টি সেবায় রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তী বছর আরও ৭টি যুক্ত হয়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫-এ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম