
দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলার মজুত রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (৩ মে) ঢাকার গুলশানে এক সংলাপে তিনি বলেন, ‘কেউ বলতে পারবে না গ্যাস আমদানির জন্য ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। এখন এলএনজি আমদানি স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’
দেশের রিজার্ভ এখন আর জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়, এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন ডলার পাওয়া যাচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী এলএনজি আমদানিও চলছে।’
আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ভর্তুকি দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ এখন আর বড় সরবরাহ নয়। ‘এ বছর বিদ্যুৎ খাতের জন্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, যেটা বাজেটে ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দিতে পারে সরকার।’
অতীতের পেমেন্ট বিলম্বের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘ভালো কোম্পানিগুলো চলে গিয়েছিল, কারণ তাদেরকে সময়মতো পেমেন্ট করতে পারছিলাম না। এখন তারা মার্কেটে ফিরে আসছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও এলএনজি দাম কমেছে; আবার বাংলাদেশের যে মার্ক-আপ ছিল এলএনজির, সেটিও কমে এসেছে।’
তিনি বলেন, শেভরন ও কাতারের প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো বড় সরবরাহকারীদের বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে। একসময় এসব প্রতিষ্ঠানে ৬০০-৭০০ মিলিয়ন ডলার বিল বকেয়া ছিল। ‘এখন কোনো বকেয়া নেই,’ বলেন গভর্নর।
তবে কাঠামোগত সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে হবে। ডলার কেনার মতো টাকা জোগাড় করার সক্ষমতা তাদের থাকতে হবে। টাকা ছাড়া আমরা তাদের ডলার দিতে পারব না।’
এলএনজির দাম বৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘হ্যাঁ, দাম বেড়েছে। তবে দ্বিগুণ করেও সরকার লাভবান হচ্ছে না।’
তিনি আরও জানান, অতীতে সময়মতো পেমেন্ট না করতে পারায় ভালো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরে গিয়েছিল। এখন তারা আবার ফিরে আসছে, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম কিছুটা কমেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম