বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি আদানির, হাসিনার মুখ্য সচিবের কারসাজি
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫, ১০:০৭ AM আপডেট: ০১.০৫.২০২৫ ১২:২৩ PM

ভারতের আদানি গ্রুপকে শুল্ক ও কর অব্যাহতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এনবিআরকে (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) পাশ কাটিয়ে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে এই সুবিধা দেয়।

শুল্ক ও কর অব্যাহতির মাধ্যমে ভারতের আদানি গ্রুপকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মূলত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাশ কাটিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব থাকাকালে সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে আদানির এই কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদক উপপরিচালক রেজাউল করিম ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) এ বিষয়ে বিস্তারিত রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো পিডিবি কোনো তথ্য দেয়নি, যা তদন্ত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। জানতে চাইলে অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত ও রেকর্ডপত্র চেয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দিয়েছি। সব ধরনের তথ্য সংগ্রহের পর তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন জমা দেব।’

এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দলের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ প্রবেশ ও সঞ্চালনের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি আদানি। আমদানির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের অংশ হিসাবে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিলের প্রমাণ পায়নি তদন্ত দল। এছাড়া তা আইনি পন্থায় নিষ্পত্তি না করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে কর ‘ফাঁকির’ বিপুল এ অর্থ পিডিবির কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করে এনবিআরের তদন্ত কমিটি।

আরও জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধান দল এনবিআরের কমিটির সেই তদন্ত প্রতিবেদন বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের নির্ধারিত মূল্য ও তা শুল্ককর আদায়যোগ্য কি না, তা প্রযোজ্য হলে শুল্ককর পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং শুল্ককর ছাড়ের বিষয়ে এনবিআর অনুমতি দিয়েছিল কি না, দেওয়া হয়ে থাকলে এ সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র বা তথ্যাদি এবং আদানি গ্রুপের সঙ্গে পিডিবির চুক্তি খতিয়ে দেখার জন্য শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ৯ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ফটোকপি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

এছাড়া দুদকের অনুসন্ধান টিম আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে সম্পাদন করা হয়েছে, তাতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, শুল্ক পরিহার বা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে কি না; এমন আরও কিছু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

এনবিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের বিপরীতে ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৭ ডলারের শুল্ককর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৯ মার্চ ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় স্থাপিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। তখন থেকেই আমদানি করা এ বিদ্যুতের শুল্কসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করা হয়নি। এনবিআরের দল তদন্তে দেখতে পেয়েছে, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় আদানির কাছ থেকে পিডিবি বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে শুল্ক অব্যাহতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এনবিআরসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়নি।

পিডিবি সূত্র জানায়, চুক্তির আওতায় গেল বছরের জুলাই পর্যন্ত আদানির কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে বাংলাদেশ। যার মূল্য ১২৮ কোটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪২ ডলার। এর বিপরীতে ৩১ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও বিভিন্ন কর মিলে ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৭ ডলারের শুল্ককর পাওয়ার কথা এনবিআরের। চুক্তিতে শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হলেও সেটির অনুমোদন নেওয়া হয়নি এনবিআর থেকে। শুল্ক গোয়েন্দা প্রতিবেদন এটাই কর ফাঁকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, আমদানি করা বিদ্যুতের শুল্ককর মওকুফসংক্রান্ত কোনো চুক্তি ছিল কি না এবং থাকলে এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারি হয়েছে কি না জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দাকে লিখিত জবাব দেয় পিডিবি। সেখানে বলা হয়, আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে আদানির বিদ্যুতের ওপর থেকে প্রযোজ্য যাবতীয় শুল্ক ও কর মওকুফের আবেদন করে। এক্ষেত্রে এর আগে ভারতীয় বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডকে দেওয়া অব্যাহতির কথা তুলে ধরা হয়। তবে এনবিআরের শুল্ক অব্যাহতি ও প্রকল্প সুবিধা শাখা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্লান্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৫৮ কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে বাংলাদেশ, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১২৮ কোটি ডলার। কিন্তু আমদানি শুল্ক ও কর বাবদ প্রায় ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বিল অব এন্ট্রি দাখিল না করাসহ আইনি প্রক্রিয়াগুলো মানা হয়নি এবং এনবিআরের পূর্বানুমতি ছাড়াই কর মওকুফ দেওয়া হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, আদানিকে দেওয়া কর মওকুফের কোনো বৈধ আদেশ বা প্রজ্ঞাপন তারা খুঁজে পায়নি। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করে, ২০২২ সালে এনবিআরের কাছে তারা কর অব্যাহতির আবেদন করেছিল; তবে এনবিআর এমন অনুমোদন দেয়নি।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক সরকারের বিতর্কিত প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এরই অংশ হিসেবে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তিসহ ১১টি বিদ্যুৎ প্রকল্প খতিয়ে দেখতে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেছে।


স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  আদানির কর ফাঁকি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close