
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সমালোচনার কারণে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ও মুদ্রাবাজার। এতে শুধু মার্কিন বাজার নয়, প্রভাব পড়েছে এশীয় বাজারেও।
সোমবার দিন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে ২.৩৬% এবং নাসডাক সূচক কমেছে ২.৫৫%, যা বছরের অন্যতম বড় একদিনের পতন। এই সূচকগুলো প্রযুক্তি খাতসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা প্রকাশ করছে।
এছাড়া, মার্কিন ডলারের দামও কমে গেছে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে। প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান দাঁড়ায় ৯৭.৯২৩, যা বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার একটি বড় ইঙ্গিত।
শুধু শেয়ার ও মুদ্রাবাজার নয়, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডও বিক্রি করতে শুরু করেছেন। এর ফলে ১০ বছরের মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪%-এর বেশি, যা সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বোঝায়।
এশীয় বাজারেও প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। মঙ্গলবার সকালে টোকিওর নিক্কেই ২২৫, হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক যথাক্রমে ০.৮%, ০.৬% ও ০.৫% হারে পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করেছে।
এই অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েলকে কটাক্ষ করে ‘মেজর লুজার’ এবং ‘মিস্টার ঠু লেট’ বলে সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ফেড সুদের হার কমাতে দেরি করছে, যার প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, পাওয়েলকে সরিয়ে দেওয়া উচিত এবং হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রশাসন সে পথ খুঁজছে। যদিও পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের মে মাসে।
ফেডারেল রিজার্ভ এখনই সুদের হার কমাতে চাইছে না। তাদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা অর্থনীতিকে আরও বিপদে ফেলবে।
ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েল বলেছেন, ‘ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে ধীর প্রবৃদ্ধি, বেশি বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা ফেডের দুই প্রধান লক্ষ্য-চাকরি সৃষ্টি ও মূল্য স্থিতিশীলতা-পূরণে বাধা সৃষ্টি করবে।’
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জোসেফ গ্যানন বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত স্বল্পমেয়াদে লাভ দেখতে চান, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেটি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ট্রাম্প যদি ফেডের নিরপেক্ষতা নষ্ট করেন, তবে বাজার আরও অস্থির হতে পারে।’
সূত্র: আল-জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম