প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:৫৪ পিএম আপডেট: ২০.০৪.২০২৫ ৫:৫৭ PM

খালার বাড়িতে রমজানের ইফতার সামগ্রী দিতে গিয়ে নিখোঁজ প্রতিবন্ধী সোহাগের সন্ধান মেলেনি ১ মাস ৭ দিনেও। নিখোঁজ প্রতিবন্ধী ছেলের খোঁজে খাওয়া-নাওয়া-নিদ্রাহীন দরিদ্র বাবা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম (৪৬)। আর মা শেলিনা বেগম (৩৮) বিলাপ করতে করতে পাগলপ্রায়। হৃদরোগে আক্রান্ত অটোচালক বাবা কর্মহীন, মা অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে।
নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ রমজান (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ৯নং গুনাইঘর ইউনিয়নের গুনাইঘর গ্রাম থেকে।
নিখোঁজ শারিরীক ও বাক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ রাকিব হোসেন সোহাগ (২১) উপজেলার ৯ নং গুনাইঘর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের ছেলে। সে পরিবারের ৪ সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র সন্তান। তার আরো ৩ জন ছোট বোন রয়েছে।
১৪ রমজান বিকেলে মায়ের দেওয়া ইফতার সামগ্রী নিয়ে প্রতিবন্ধী সোহাগ পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুনাইঘর খালার বাড়িতে যায়। ইফতার সামগ্রী দিয়ে খালার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।
নিখোঁজ সোহাগের বাবা বলেন, 'আমার ছেলে বাড়ি না ফেরায় তাকে খুঁজতে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি, বিভিন্ন গ্রাম, পুকুর, হাসপাতাল, থানায় ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। পুত্র নিখোঁজ হওয়ায় গত ১৫ মার্চ দেবীদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি। আমি হার্টের রোগি, অসুস্থ্য শরীর নিয়ে অটো চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করি। পুত্র নিখোঁজের পর তাকে খুঁজে পেতে অনিয়মিত খাওয়া-নাওয়া-নিদ্রাহীনের কারনে আমি আরো বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছি। আমার ছেলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, সে বোবা হলেও ধার্মিক ছিল। পরিবারের অভাব অনটনের মাঝে আজ (২০ এপ্রিল) দুপুরে আমার অসুস্থ্য স্ত্রীকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছি। সকলের প্রতি অনুরোধ আমার নিখোঁজ সন্তানকে পেতে সবাই সহযোগীতা করুন।'
মা’ শিরিন বেগমের আকুতি 'আমার একমাত্র পুত্র সন্তান আমার মানিক ধন সোহাগের হাড় কঙ্কালও যদি খুঁজে পান তাও দেন, আমি বুকে জড়িয়ে মরতে চাই।'
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, 'থানায় নিখোঁজ ডায়েরী হয়েছে, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিখোঁজ প্রতিবন্ধী সোহাগকে পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ