প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:৫২ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৫ ৬:৫৯ PM

আগামী বাংলাদেশের জন্য নতুন সংবিধান নয়, নতুন গঠনতন্ত্রের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার।
তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই বলছেন বিপ্লব, তবে এটা কিন্তু বিপ্লব না এটা গণঅভ্যুত্থান। ফলে এখনকার যে লড়াই হবে তা সাংস্কৃতিক লড়াই। আর এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদেরকে আগামীর বৃহত্তর লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে হবে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা প্রথম থেকেই বলছে বাংলাদেশের জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রয়োজন, নতুন সংবিধান বা আইন না। আমরা কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসক না। ইংরেজরা আইন প্রণয়ন করে আর জনগণ গঠনতন্ত্র করে। গঠনতন্ত্র মানে কিন্তু আইন না, তবে সংবিধান মানে হচ্ছে আইন। তার মানে আপনি যখনই সংবিধান বলবেন আপনি ঔপনিবেশিক একজন শাসক, লুটেরা মাফিয়াতন্ত্রের ন্যায় একজন শাসক। আপনি একটা আইন দিয়ে গরিবদের শাসন করবেন।’
গঠনতন্ত্র মানে জনগের অংশগ্রহণ মন্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেন, নববর্ষের পরে আমি অনেক পত্রিকা দেখেছি, অধিকাংশ পত্রিকা বুঝতে পারেনি এ সরকার এ দুইটি প্রোগ্রাম অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি এবং নববর্ষ মাধ্যমে জনগণকে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে। কারণ চৈত্র সংক্রান্তি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। আর বৈশাখ মাস যখন আসে তখন চৈত্র যে নক্ষত্র এবং গ্রহের যে নক্ষত্র তার সাথে কৃষকদের জীবন জড়িত। ফলে সৌরমণ্ডলের ওই রাশিটা চলে যায় এবং মেষ রাশিতে প্রবেশ করে। এ যে পরিবর্তনটা এটার সঙ্গে ঋতুর পরিবর্তন হয়। আর এ ঋতুর পরিবর্তনটাই কৃষকেরা উৎসব করে পালন করে।
তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতিতে কোনো ক্যালেন্ডার নেই। আমাদের সংস্কৃতিতে রয়েছে ঋতু। ঋতু কিন্তু বারবার ফিরে ফিরে আসে। আর আপনি যখন বৈশাখ করে বলেন,সমস্ত অতীতের ময়লা ধুয়ে যাক মুছে যাক, তখন কিন্তু আপনি আপনার ঐতিহ্যকে, ধর্মকে অস্বীকার করছেন। ফলে পুরোনো বলে কিছু নেই। এগুলো আমরা কলোনিয়াল যুগ থেকে শিখেছি যে পুরোনো মানে আবর্জনা এগুলোকে ফেলে দিতে হবে।
চৈত্র সংক্রান্তি করার মধ্য দিয়ে নতুন সংস্কৃতির উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নতুনভাবে নিজেদের জানার চেষ্টা করছি। বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে ওঠা যে বিনোদন সংস্কৃতি, এটাকে আমরা সংস্কৃতি বলি না।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি