বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
আয়নাঘরের মৃত্যু বা মুক্তির সিগন্যাল ছিল এক কাপ চা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৪:৫০ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৫ ৫:১৫ PM

সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান আয়নাঘরের ভয়াল বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ভয় আর অনিশ্চয়তার সেই সময়ের স্মৃতিতে তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরে মৃত্যু বা মুক্তির আগে এক কাপ চা আসত। সেটাই ছিল এক ধরনের সিগন্যাল। হঠাৎ চা এলে বোঝা যেত-কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। হয় মুক্তি, নয়তো মৃত্যুদণ্ড।’

রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে এক সাক্ষাৎকারে মারুফ জামান জানান, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর তাকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর বিচারহীনভাবে ১৬ মাস তাকে ডিজিএফআই পরিচালিত এক টর্চার সেলে বন্দি রাখা হয়, যেটিকে তিনি ‘আয়নাঘর’ নামে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘জেআইসি মূলত জঙ্গি বা অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৈরি হলেও শেখ হাসিনার আমলে এটি হয়ে ওঠে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে ভয়ংকর টর্চার সেল। অনেকে সেখানে জীবিত ফিরে আসেননি।’

মারুফ জামান জানান, তার অপরাধ ছিল ভারতীয় আগ্রাসন এবং হাসিনা সরকারের সমালোচনা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তিনি ভারতীয় পানি নীতির সমালোচনা করায় ভারতীয় দূতাবাস ক্ষুব্ধ হয়। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন, এজন্যও তাকে ‘বিএনপি ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঘটনার দিন তার দুই মেয়ে বিদেশ থেকে ফিরছিল। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে অস্ত্রধারী লোকজন তার গাড়ি থামিয়ে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় অধ্যায়।

১৬ মাসের বন্দিজীবনে তার দাঁত ভেঙে যায়, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ন্যূনতম চিকিৎসাও পাননি। একটি ছোট, অন্ধকার ঘরে তেলাপোকা, মশা আর ভেজা পরিবেশে দিন কেটেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার খিচুড়ি দেওয়া হতো। সেটার হিসাব রেখে আমি দিন-তারিখ বুঝতাম।’

এক প্রহরী একদিন চা নিয়ে এলে তিনি চমকে ওঠেন। তখন প্রহরী বলেন, ‘স্যার, হয়তো আপনাকে মেরে ফেলবে না। ডিসেম্বরে নির্বাচন শেষে মুক্তি পেতে পারেন।’ পরে এক অফিসার জানান, তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তবে শর্ত-এক বছর কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাবে না। না মানলে তার মেয়েদের মেরে ফেলা হবে।

২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল ধানমন্ডির বাসার সামনে ফেলে যায় তাকে। কিন্তু ফিরে এসেও স্বাভাবিক জীবন শুরু করা সহজ ছিল না। পরিচিত অনেকেই ভয় বা চাপের কারণে দূরে সরে যান।

তিনি জানান, আয়নাঘরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকেই এখনো স্বপদে বহাল। ফলে পুরো ঘটনার বিচার এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: যুগান্তর।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম





Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close