প্রকাশ: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম আপডেট: ১২.০৪.২০২৫ ৯:০৮ PM

কুড়িগ্রামের রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশন ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আধুনিক রেলসেবা থেকে বঞ্চিত এই উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
এই অঞ্চলে ট্রেন চলাচলের জন্য রাজারহাট স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্ল্যাটফর্ম না থাকায় যাত্রী ও মালামাল ওঠানামা করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। দিনে-রাতে আটবার ট্রেন চলাচল করলেও, স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও স্টেশনটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখনো মান্ধাতা আমলের জরাজীর্ণ ভবনেই কোনোরকমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশন ভবনের দুই পাশে ময়লার ভাগাড় ও আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশনটি স্বাধীনতার পর আনুমানিক ৩০০ গজ পশ্চিমে স্থানান্তরিত করে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে স্টেশনটিতে আর কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকায় যাত্রী বিশ্রামাগারের অবস্থা হয়ে পড়ে অত্যন্ত দুরাবস্থা। স্বাধীনতার পর নির্মিত ভবনের সঙ্গে সাময়িকভাবে তৈরি করা প্ল্যাটফর্মটিও এখন প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
প্ল্যাটফর্মের জায়গাটি নিচু হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠানামা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। সামান্য অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
এদিকে, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই প্ল্যাটফর্মটি পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে এই লাইনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসসহ চারটি লোকাল ট্রেন এবং দিনে দুটি কানেকটিং শাটল ট্রেন মিলিয়ে মোট আটটি ট্রেন চলাচল করে। শাটল ট্রেন থেকে নামা যাত্রী রবিউল (৬২) বলেন, ঐতিহাসিক ভাবেই রাজারহাট সুপারি ও পাটের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত। মালামাল পরিবহনের জন্য রেল যোগাযোগ নিরাপদ ও সহজলভ্য হওয়ায় এই অঞ্চলের জন্য রেল ষ্টেশনটি অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় এখানে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগে নি। রেলওয়ে ষ্টেশনটি পুননির্মাণ ও আধুনিকায়ন করলে জনগন যেমন উপকৃত হবে তেমনি সরকার অধিক পরিমানে রাজস্বও পাবে।
রাজারহাট রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার (ভারপ্রাপ্ত) মাইদুল ইসলাম বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্দ্যেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়াও লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মুঠোফোনে বলেন, লোকাল ট্রেন উদ্বোধনকালে আমরা ষ্টেশন ভবন,প্ল্যাটফর্ম শেড পরিদর্শন করি। ইতিমধ্যে ষ্টেশনটি পুননির্মাণের জন্য রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর বরাবর একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে কাজটি শুরু করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি