
গাজায় ৭০ শতাংশ পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। গাজার কর্মকর্তারা আনাদোলু এজেন্সি ও আলজাজিরার কাছে এ অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (৯ এপ্রিল) আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। যার ফলে ফিলিস্তিনি উপত্যকায় মোট পানি সরবরাহের ৭০ শতাংশ কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইসরায়েলি কোম্পানি মেকোরোট গাজায় সিংহভাগ পানি সরবরাহ করে। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার মধ্যস্থতায় কোম্পানিটি খাবার পানি সরবরাহ করে আসছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্যানিটেশন এবং পানির সুবিধা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলস্বরূপ, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের ১২ লাখেরও বেশি বাসিন্দা সুপেয় পানির অভাবে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন।
গাজা পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মেহান্না বলেন, ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পূর্ব গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় অবস্থিত মূল পাইপলাইনে পানি নেই। ফলে সেখান থেকে সাব-সরবরাহ চ্যানেল অকেজো। শুজাইয়া পাড়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক আক্রমণ চালাচ্ছে। পানি সরবরাহ বিঘ্নের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করছি। এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভারী বোমাবর্ষণের কারণে পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা আগে যাচাই করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই স্থগিতাদেশ সরাসরি সামরিক কার্যকলাপের কারণে হতে পারে অথবা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে হতে পারে।’
মেহান্নার মতে, কারণ যাই হোক না কেন, এর পরিণতি ভয়াবহ। যদি মেকোরোট থেকে পানি প্রবাহ শিগগিরই পুনরুদ্ধার না করা হয়, তাহলে গাজা একটি পূর্ণাঙ্গ পানি সংকটের মুখোমুখি হবে।
ইসরায়েল কর্তৃক গাজায় পানি সরবরাহ বন্ধ করার ঘটনায় মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যার কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বছরের পর বছর ধরে অবরোধ, অবকাঠামোগত ধস এবং ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের কারণে গাজা উপত্যকা ইতোমধ্যেই বিশুদ্ধ পানির দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতিতে ভুগছে। মানবিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকায় এখন ব্যাপক পানিশূন্যতার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ গাজায় জরুরি পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিমাণ পানিও সরবরাহ করতে দেয়নি। ফলস্বরূপ, উপত্যকাটির হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, এবং ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধরনের রোগ।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি। ইসরায়েলকে চাপ দিয়ে গাজায় পানির সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এমন না হলে গাজাবাসীর মানবাধিকার ও জীবনযাত্রার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম