প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৪৯ AM আপডেট: ০৬.০৪.২০২৫ ৯:৫২ এএম

দক্ষিণ গাজায় গত ২৩ মার্চ ১৫ জন চিকিৎসাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। রবিবার (৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তাদের সৈন্যরা ভুল করে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের একটি গাড়ি এবং গাজার সিভিল ডিফেন্সের একটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ির সমন্বয়ে গঠিত বহর রাফার কাছে হামলার শিকার হয়।
প্রথমে ইসরায়েল দাবি করেছিল, ওই বহরটি অন্ধকারে হেডলাইট বা ফ্ল্যাশিং লাইট ছাড়া ‘সন্দেহজনকভাবে’ এগিয়ে আসছিল, তাই সৈন্যরা গুলি চালায়। ওই গাড়িগুলোর চলাচল সেনাবাহিনীর সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছিল।
কিন্তু নিহত এক প্যারামেডিকের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িগুলোর লাইট জ্বালানো ছিল এবং তারা আহত মানুষকে সাহায্য করতে সাড়া দিয়েছিল।
রাফার কাছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের একটি গাড়ি এবং গাজার সিভিল ডিফেন্সের একটি অগ্নিনির্বাপক ট্রাকে গুলি চালানো হয়।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জোর দিয়ে বলছে যে, কমপক্ষে ছয়জন চিকিৎসক হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তারা এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। তারা এটাও স্বীকার করেছে যে, সৈন্যরা যখন গুলি চালায় তখন জরুরি বিভাগের ওই কর্মীরা নিরস্ত্র ছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ার করা একটি ভিডিওটিতে দেখা গেছে, যানবাহনগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। সে সময় কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই ভোর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সেখানে গুলি চালানো হয়।
ফুটেজটি পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলেছে। সে সময় রেফাত রাদওয়ান নামে এক প্যারামেডিককে শেষ বারের মতো আর্তনাদ করতে শোনা গেছে। হামলার আগে ইসরায়েলি সৈন্যরা গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। সে সময় তাদের কথা বলতে শোনা গেছে।
গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সেখানে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৬৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৫ জন। গাজাকে রীতিমতো এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ