প্রকাশ: বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ৫:২৩ পিএম

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরোধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার প্রতিটি হাওরে বোরো আবাদের ধুম চলছে। ভোরের আলো ফুটতেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকালে বীজতলায় ধানের চারা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি চাষের কাজ চলছে পুরোদমে। আবার কোনো কোনো ক্ষেতে বোরো ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা।স্বপ্নের ফসল রোপণের জন্য দিনরাত কাজ করছেন কৃষকরা। দম ফেলার ফুরসত নেই তাঁদের ।
একফসলি বোরোধানের এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ জেলা। এই জেলার অন্তত ৯০ ভাগ মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন একমাত্র বোরো ধান। কার্তিক, অগ্রহায়ণ মাস থেকে হাওরজুড়ে শুরু হয় কৃষকদের বীজতলা সাজানো, বীজ বপন এবং পর্যায়ক্রমে ধানের চারা রোপণ। পৌষের শুরু থেকেই বোরোধান রোপণে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে ৯ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
দিরাইয়ের চাপতি হাওরপাড়ের কৃষক লিটন মিয়া বলেন, 'এবার আমি আড়াই হাল (১২ কেদারে এক হাল) বোরো জমিনে উচ্চ ফলনশীল ধান রোপণ করতে যাচ্ছি, প্রায় অর্ধেক রোপণ করেছি। এমাসেই ধান রোপণ শেষ হবে। এখন জমি করতে হালচাষ পানি, রোপণ সব নগদ টাকা দিয়ে করতে হয়। যার কারণে অনেক টাকা খরচ হয়। গতবছর ভালো ধান পেয়েছিলাম, আবহাওয়া ভালো থাকলেও এবার ও ভালো ধান ঘোলায় তোলার আশা করছি।
বিশ্বম্ভরপুরের খরচার হাওর পাড়ের কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, "এবার পাঁচ হাল (১২ কেদারে ১হাল) জমিন করছি। প্রায় অর্ধেক রোপণ করা হয়েছে। পুরাপুরি শেষ করতে আরও ১০থেকে১৫ দিন সময় লাগবে।শ্রমিকের সংকট রয়েছে। গত বছর ভালো ফসল পেয়েছিলাম। এই আশায় এবারও ধান লাগাইতেছি। "
আরও একাধিক কৃষকের সাথে আলাপ করলে তাঁরা জানান , গতবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সকল হাওরে আশানুরূপ ফসল হয়েছে। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে এবং প্রাকৃতিক কোন বিপদ না হলে বোরাধান রোপণের খরচ বাদেও আমাদের অনেক লাভ হয়। আমরা পরিবারের খরচ যোগাতে পারি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন," হাওরে বোরো চারা রোপণ কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের পাশে থেকে আমরা তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি।"
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর