প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম

স্বামী নেই প্রায় এক দশক। বয়সও ৭০ ছুঁই ছুঁই। অথচ এখনো জোটেনি বিধবা ভাতা কিংবা বয়স্ক ভাতা। নিজের নামের কাজ দিয়েছেন ছেলের বউকে। ঘরে পড়ে আছে তীব্র সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ১১ বছরের নাতনি সোনালী তাঁতী। নাতনিকে খাওয়ানো, গোসল করানো, কাপড় বদলানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সব দায়িত্বই একা সামলাতে হচ্ছে বৃদ্ধ দাদি সনকা তাঁতীকে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা বাগানের বাসিন্দা সনকা তাঁতীর জীবন এমনই। দুঃখ-কষ্ট আর সংগ্রামের এক দীর্ঘ গল্প। বয়সের ভারে নিজেই যখন ন্যুব্জ, তখন প্রতিবন্ধী নাতনির দেখভাল করতে গিয়ে প্রতিদিনই তাঁকে করতে হচ্ছে হাড়ভাঙা পরিশ্রম। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে নাতনি সোনালীর জন্য একটি হুইলচেয়ার পেয়েছেন সনকা। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও নাতনির সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব থেকে মুক্তি মেলেনি তাঁর।
বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে আক্ষেপ করে সনকা তাঁতী বলেন, ‘এখনও কোনো ভাতা পাই না। বয়স হয়েছে, চোখে ঝাপসা দেখি। বউমা বাপের বাড়ি গেলে নিরুপায় হয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে যাই। লাকড়ি, ঘাসের জন্য বনে যেতে হয়। কারণ তখন তাকে দেখার মতো আর কেউ থাকে না।’ তিনি বলেন, ‘নাতনিকে খাওয়ানো, স্নান করানো, কাপড় বদলানো; সব দায়িত্বই এক হাতে সামলাতে হয়। টানাটানি করতে খুব কষ্ট হয়। একা আমি আর কুলিয়ে উঠতে পারি না। হুইলচেয়ার পেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।’
সনকার একমাত্র ছেলে রিন্টু তাঁতী, সোনালীর বাবা। তিনি কীর্তনের কাজে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকেন। স্ত্রী (সোনালীর মা) মারা যাবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তাঁর বর্তমান স্ত্রী বাগানে কাজের কারণে বাড়িতে কম থাকেন। ফলে তীব্র সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত সোনালীর সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়েছে বৃদ্ধ দাদির কাঁধে। রিন্টুর দ্বিতীয় সংসারে দুটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লছমী নারায়ণ অলমিক জানান, সনকা তাঁতীর জন্য বিধবা ভাতার আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিধবা ভাতার চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এটা একটা বিরাট সমস্যা। যদি না মিলে, তাহলে তাঁকে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ভাতার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করব।’
একজন চা শ্রমিক সনকা তাঁতী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে অবহেলায় পড়ে থাকবেন, হাড়ভাঙা খাটুনি খাটবেন এটা কারো কাম্য হতে পারে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ