
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামের এক নারীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা, পরকীয়া, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পত্তি লিখে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একটি মামলায় পুলিশি তদন্তেও আংশিক বাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম ছালমা বেগম। তিনি ওই এলাকার মৃত মুজাফফর মুন্সীর মেয়ে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ মে ছালমা বেগমের তৎকালীন স্বামী মো. নাজিউর রহমান খোকন বাদী হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ‘ক’ অঞ্চলে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ছালমা বেগম পরকীয়া ও টাকার বিনিময়ে পরপুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। এ ছাড়া টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা এবং বিভিন্ন হোটেলে রাত্রিযাপনের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
এ মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাজন বসাক। পরবর্তীতে পটুয়াখালী সদর থানার তৎকালীন এসআই রাসেল মাহমুদ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে মামলার অভিযোগগুলোর আংশিক বাদে বাকিগুলো সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। এমনকি ছালমা বেগম বেপরোয়া ও প্রকাশ্যে অশ্লীল জীবনযাপন করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাদীর দাবি, বিয়ের সময় ছালমা বেগমের নামে আমতলীর গোছখালী মৌজার ৭নং জে.এল ভুক্ত এস.এ ৩০৩ নং খতিয়ানে সৃজিত ১৪৫৮ নং খতিয়ানে ২৫৮৫ নং দাগে ০.১৪ শতাংশ জমি কিনে দেন নাজিউর রহমান খোকন। যার মূল্য ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে শর্ত ছিল যে, ছালমা বেগম যদি সংসার না করেন এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ডিভোর্স দেন বা অন্যত্র সংসার করার চেষ্টা করেন, তবে ওই সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এ বিষয়ে একটি রোয়েদাদ করা হয়।
কিন্তু কিছুদিন সংসার করার পর পূর্বের বিবাহ ও সংসারের কথা গোপন রেখে ছালমা বেগম তাঁকে একতরফা তালাক দেন। এরপর তা গোপন রেখে বসতঘরের মূল্যবান মালামাল ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। নাজিউর রহমানের মতে, তাঁর বেপরোয়া ও অশ্লীল জীবনযাপনে বাধা দেওয়াই এই তালাকের মূল কারণ।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশি বৈঠকে রোয়েদাদনামায় উল্লিখিত ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও কার্টিজ পেপারে সম্পত্তি ফেরত চাওয়া হলে ছালমা বেগম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেন।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদালতে ছালমা বেগমসহ ৩ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয় (সি.আর মামলা নং- ১২১৫/২০২৬)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
এই মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন—মো. হারুন মুন্সী ও মো. হানিফ মুন্সী। মামলায় তাঁদেরকে ছালমার দুষ্কর্মে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামে ছালমা বেগমের বসবাসরত বর্তমান এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছালমা বেগম বর্তমানে ওই এলাকার হাজী বাড়ির মনির নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকেন। সেখান থেকে তিনি সন্ধ্যাবেলা ঘর থেকে বের হয়ে পরদিন সকালে বাসায় ফেরেন। তাঁর এই অনৈতিক কার্যকলাপে রুহুল আমিন হাজী নামের এক ব্যক্তি সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছালমা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “আপনার যেটা ভালো মনে হয়, সেটা প্রকাশ করেন।”
“আপনার বিরুদ্ধে এর আগেও পটুয়াখালী বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ‘ক’ অঞ্চলে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেখানে থানা থেকে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্টে মামলার আংশিক বিবরণ বাদে বাকিগুলো সত্য বলে প্রতীয়মান হয়”—প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “থানা পুলিশ সব টাকায় বিক্রি হয়। সেই রিপোর্টে যদি আমার ফাঁসি হয়, তাহলে আমি ফাঁসির জন্য প্রস্তুত”—বলেও এ সময় মন্তব্য করেন ছালমা বেগম।
পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদালতে করা মামলার অপর দুই আসামি মো. হারুন মুন্সী ও মো. হানিফ মুন্সীর মুঠোফোনে কল করে এ বিষয়ে তাঁদের মন্তব্য জানতে চাইলেও তাঁরা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ