প্রকাশ: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ পিএম আপডেট: ০৪.১০.২০২৬ ৭:৫৪ PM

পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে এক বছর আগে নৈশপ্রহরী নিয়োগের বিষয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েও ওই পদে নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির সাবেক নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম এ অভিযোগ তোলেন। তবে অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম চাকরি থেকে অবসর নিলে নৈশপ্রহরীর পদটি শূন্য হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে প্রথমবার এবং ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দ্বিতীয়বার নৈশপ্রহরী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
মূলত, প্রথমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই ওই কলেজের সাবেক নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম তাঁর ছেলে মঞ্জুর হাসানকে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। নিয়োগের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তাঁর ছেলেকে নৈশপ্রহরী পদে চাকরির আশ্বাস দিয়ে অধ্যক্ষ প্রথম দফায় শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবেক নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলামের ছেলে মঞ্জুর হাসানের পরিবর্তে নজরুল ইসলাম নামের একজন মনোনীত হন।
জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী নিয়োগের জন্য দুই দফায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) কলেজটিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় সাতজন অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এতে প্রথম হয়েছেন নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় হয়েছেন ওমর ফারুক এবং তৃতীয় হয়েছেন মঞ্জুর হাসান।
এ সময় সাবেক নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলে মঞ্জুর হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল দুই দফায় তাঁর কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু চাকরি না দেওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য। তাই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তেমন কিছুই হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল বলেন, কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ড ও সভাপতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। চাকরির কথা বলে অগ্রিম কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনে তিনি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ