প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ AM আপডেট: ২৮.০৯.২০২৬ ১২:৪৬ PM

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী একটি কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি আসেনি। বিষয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানিবাহী বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারেনি। তবে পাকিস্তান কেন ওই বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বাংলাদেশ এখনো জানতে পারেনি।
মন্ত্রী জানান, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পাঠানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে। বিকল্প রুট ব্যবহার করে চালানটি পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, জ্বালানি গ্রহণের জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে বিমানটি না পৌঁছালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানানো হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার অনুমতি কেন পাওয়া যায়নি এবং কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি প্রয়োজন ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রোসাটমের কাছে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি জ্বালানি সংবলিত ওই চালান কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল।
পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ সুরক্ষিত কনটেইনারে করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এসব জ্বালানি ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহে আকাশসীমা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। রাশিয়া বিকল্প রুটে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পাঠানোর নতুন সময়সূচি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি