শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বাড়ছে সচেতনতা      ● আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস      ● ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ কনসার্টের ঘোষণা ম্যাকলমোরের      ● ভ্রু ও চোখের পাতা ঘন করার সহজ ঘরোয়া উপায়      ● ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সারাদেশে ১৩তম ঢাবির পারভেজ রহমান      ● ধুনটে পৃথক মামলায় ৫ আসামি গ্রেপ্তার      ● কোয়ার্টারে সহজ প্রতিপক্ষ পাচ্ছে বাংলাদেশ, সেমিফাইনালে কারা?      ● আজ স্বপ্ন দেখার দিন      ● আজ মালয়েশিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ, খেলা শুরু বিকেল ৩টায়      ● প্রাইমারির ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের হাহাকারে সয়লাব ফেসবুক      ● বড় ধাক্কা সামলেও ভারতের শীর্ষ ধনী অভিনেতা শাহরুখ খান      ● ইরানের ৭ দিনের প্রস্তাব, শর্ত মানলে খুলবে হরমুজ      
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ AM

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক জলবায়ু বিষয়ক সভায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তিনি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের জলবায়ুজনিত ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না।

বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সার্কুলার অর্থনীতি এবং সবুজ শিল্পের প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তির ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য ধরে রাখতে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে অধিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরির কথা বলেন।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সর্বশেষে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।



স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  তারেক রহমান   প্রধানমন্ত্রী   বাংলাদেশ   জাতিসংঘ   নিউইয়র্ক   জলবায়ু পরিবর্তন   জলবায়ু সংকট   জলবায়ু  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close