বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      এনসিপি নেতাদের গণধোলাই দিতে হবে: এমদাদ চৌধুরী      ৬৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি      ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ৩      বিগত সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট হয়েছে : ড. এম এ কাইয়ুম      আজ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী       নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট নয়, জানুয়ারিতে স্থানীয় নির্বাচন: ইসি      বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম      ‘বাকেরের ফাঁসি’ ঠেকাতে রাস্তায় নেমেছিল মানুষ      মানুষ ও প্রাণীর নীরব বন্ধনের গল্প ‘হার্ট অব দ্য বিস্ট’-এ      
পদ্মা সেতুর কাছে ৬ কোটি ঘনফুটের বেশি বালু তোলার উদ্যোগ
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ পিএম

পদ্মা সেতুর কাছাকাছি এলাকা থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বালু তোলার জন্য আবেদন করা ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঠিকানার অস্তিত্ব সরেজমিনে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া মোবাইল নম্বরও সক্রিয় নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে এলাকা থেকে বালু তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে নদীভাঙন রোধে সরকার ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নদীভাঙন রোধে প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ওই এলাকা থেকে বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ব্যবস্থা ও আশপাশের নদীতীর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তোলন করা বালু কোনো সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। বরং বালু বিক্রির জন্যই তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ বিষয়ে অনাপত্তি দিয়েছে। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ও প্রতিষ্ঠানটিকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বালু উত্তোলনে কাটার সাকশান ড্রেজার ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হলেও আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের ড্রেজার কোম্পানি হিসেবে বিআইডব্লিউটিএতে নিবন্ধিত নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয় এর আগে অনাপত্তি বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছিল, পরে আবার সম্মতির চিঠি দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বালু তোলার বিষয়ে মতামত দিতে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে স্থানীয় পুলিশ, মৎস্য ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও মতামত দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত খননের কারণে নদীভাঙন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং মাছের প্রজননে সমস্যা।

কমিটির প্রধান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানান, বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তারা তাদের অনুসন্ধান ও মতামত জমা দিয়েছেন। তবে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলেও জানান তিনি।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বালু তোলার আবেদন করেছে এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদন দেওয়া সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এখনো কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় নদীভাঙনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল ৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠিতে জানান, পদ্মা সেতুর ভাটিতে প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকা নদীভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা চরটি ইতোমধ্যে নদীর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে বিলীন হয়েছে এবং স্যাটেলাইট ছবিতেও নদীভাঙনের চিত্র স্পষ্ট বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ‘আইকনিক সোর্সিং’-এর প্রোপ্রাইটর সৈয়দ সাদাব মাহবুব গত ৪ মে বিআইডব্লিউটিএতে বালু তোলার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, পদ্মা সেতুর মূল ঠিকাদারের ক্রেন চলাচল ও পলি অপসারণের জন্য দেশীয় ড্রেজার দিয়ে চ্যানেল তৈরি করা হবে এবং কাজটি নিজস্ব অর্থায়নে করা হবে। তবে উত্তোলিত বালু কোথায় ব্যবহার করা হবে, আবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবেদনে দেওয়া ১১৫/১ বছিলা মেইন রোডের ঠিকানায় সরেজমিনে ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় ১১৫ নম্বর হোল্ডিং থাকলেও ১১৫/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীও ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা হোল্ডিংয়ের কথা জানেন না বলে জানান।

অন্যদিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেন, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বালুমহাল ঘোষণা করে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদার নির্ধারণের বিধান রয়েছে। বেসরকারি কাউকে এভাবে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সরকারি প্রকল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমতি দেওয়ার বিধান থাকতে পারে বলে জানান তিনি।



স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  #পদ্মাসেতু #পদ্মানদী #বালুউত্তোলন #নদীভাঙন #পদ্মাসেতুরঝুঁকি #আইকনিকসোর্সিং #মুন্সীগঞ্জ #লৌহজং  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close