
এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের নভেম্বরের ফিউচার ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছে।
অক্টোবরের ডেলিভারির জন্য ডব্লিউটিআই ফিউচার ৮৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই ফিউচারও ৮৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নজর
রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে হুমকি দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে থাকতে পারেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতার ফল কী হয়, সেদিকে নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি মূলত বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সাময়িকভাবে পরিবর্তনের ফল বলে মনে হচ্ছে। এতে বাজারের মৌলিক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন এসেছে—এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার ফলাফল দেখার জন্য বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন। আলোচনা এগোলে বা ব্যর্থ হলে তার প্রভাব তেলের দামে পড়তে পারে।
ইরানের শর্ত, মধ্যস্থতায় চীন
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আবার আলোচনায় ফিরতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে কিছু শর্ত জানিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে একটি সৌদি আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে লোহিত সাগরের উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হুতিরা অভিযান জোরদার করেছে।
তিনটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, হুতিদের হামলা কমাতে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য সৌদি আরব চীনের কাছে অনুরোধ করেছে। এরপর চীনও ইরানকে হুতিদের হামলা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
হরমুজ দিয়ে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ বেড়েছে
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু বন্দর দিয়ে কিছু তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় দেশটি। এরপর সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, রোববার উপসাগরের ভেতরে সাতটি বড় তেলবাহী জাহাজে সৌদি আরামকোর প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন পুনরায় চালুর উদ্যোগের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
লিবিয়ায় উৎপাদন কমেছে
অন্যদিকে লিবিয়ায় শারারা তেলক্ষেত্র থেকে জাওয়িয়া বন্দরের দিকে যাওয়া অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইনের একটি ভালভ সোমবার একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শারারা তেলক্ষেত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশন।
রয়টার্সের দুই প্রকৌশলীর তথ্য অনুযায়ী, শারারা তেলক্ষেত্রে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ব্যারেল কমে এখন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা স্বস্তির পাশাপাশি লিবিয়ার উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো ঘটনাও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি