প্রকাশ: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ পিএম

ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের হামলার পর ওয়াশিংটন বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেন। ফোনালাপে তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সে সময় ট্রাম্প সৌদি যুবরাজের অনুরোধে সাড়া দেননি।
এরপর রিয়াদে হুথিদের হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। হামলার পর ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থানকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে যান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
CNN-এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স প্লিটসাসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আলোচনায় হুথিদের ওপর হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্য হতে পারে—এমন আশঙ্কাও উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনায় হুথিরা লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ কারণেই এতদিন হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে ওয়াশিংটন বিরত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলার পর সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি