প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম

অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকলে ধীরে ধীরে কানের শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে শব্দ-প্ররোচিত শ্রবণশক্তি হ্রাস হিসেবে পরিচিত।
কারখানার ভারী যন্ত্রপাতি, নির্মাণকাজ ও উচ্চ শব্দের সরঞ্জাম থেকে এ ধরনের শব্দের সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি মাইকের ব্যবহার, শুটিং, ডিস্কো, ব্যক্তিগত স্টেরিও এবং গাড়ির অতিরিক্ত হর্নও শব্দদূষণের অন্যতম উৎস।
দীর্ঘ সময় কর্মক্ষেত্রে উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে পেশাগত শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে আট ঘণ্টার কর্মদিবসের জন্য ৯০ ডেসিবল শব্দমাত্রাকে গ্রহণযোগ্য সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শব্দের তীব্রতা ও এক্সপোজারের সময়ের ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।
যেভাবে কানের ক্ষতি করে
৯০ ডেসিবলের বেশি শব্দ কানের ভেতরের কক্লিয়ায় পরিবর্তন ঘটাতে পারে। শুরুতে কক্লিয়ায় বিপাকীয় ক্লান্তি দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে বা বারবার উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে এলে কানের বাইরের হেয়ার কোষগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কক্লিয়ার ভেতরে সারিবদ্ধভাবে থাকা এসব হেয়ার কোষ পর্যায়ক্রমে নষ্ট হতে থাকে। প্রথমে বাইরের দিকের কোষ, পরে আরও ভেতরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব শ্রবণশক্তি হ্রাস বা বধিরতায় রূপ নিতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে
অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শের পর সাময়িকভাবে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে, যাকে অস্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট (টিটিএস) বলা হয়। এ সময় কানে ঝিঁঝিঁ বা শোঁ শোঁ শব্দও হতে পারে।
অন্যদিকে স্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট (পিটিএস) অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয়। ফলে কথা বোঝার ক্ষমতাও কমতে পারে। বাইরে থেকে কানের পর্দা স্বাভাবিক দেখা গেলেও বিভিন্ন শ্রবণ পরীক্ষা করলে সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রতিরোধে করণীয়
শব্দদূষণ থেকে শ্রবণশক্তি রক্ষায় অতিরিক্ত শব্দযুক্ত পরিবেশ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা জরুরি। উচ্চ শব্দের এলাকায় কাজ করতে হলে ইয়ারপ্লাগ বা উপযুক্ত শ্রবণ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া গাড়ির অপ্রয়োজনীয় হর্ন, অতিরিক্ত মাইক ব্যবহারসহ শব্দদূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগই শব্দদূষণজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ