
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাহস থাকলে দেশে ফিরে আইন ও আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশে থাকার সাহস না থাকলেও এখন বিদেশে বসে নানা ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
জাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের মানুষ অনির্বাচিত ও বিনা ভোটের সরকারের অধীনে ছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে ক্ষমতা ছাড়ার পর সংশ্লিষ্টদের দেশে থাকার মতো সাহস ছিল না। এখন তারা বিদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের আস্ফালন করছেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি ‘ঘুপচি আন্দোলন’ বা এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। কারও যদি সত্যিই রাজনৈতিক সাহস থাকে, তাহলে দেশে ফিরে জনগণের সামনে আসা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অতীতে গুলি করে মানুষ হত্যা, দেশের সম্পদ লুট এবং মেগা প্রকল্পের নামে অনিয়ম-দুর্নীতির যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেসবের হিসাব বাংলাদেশের মাটিতেই দিতে হবে। আইন ও আদালতের মাধ্যমে এসব অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আদালত যদি কাউকে নির্দোষ বলে রায় দেয়, তাহলে গণতন্ত্রকামী মানুষ তা মেনে নেবে। তাই বিদেশে অবস্থান করে পালিয়ে থাকার পরিবর্তে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দেওয়ার অভিযোগও করেন জাহিদ হোসেন।
এদিকে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
আসাদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে দলকে ‘হাইব্রিডমুক্ত’ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বোদা থেকে পঞ্চগড়ে এসে একসময় তিনিই দলীয় কার্যালয়ের দরজা খুলেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর কয়েকজন নেতা-কর্মী প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই শুরু করেন।
পরে মন্ত্রী ও দলের অন্য নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সভার পরিবেশ শান্ত হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ