
দুই বছর বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদীর দুই তীরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দুই বছর পর প্রতিযোগিতা ফিরে আসায় তিতাসের ঢেউ, বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজকেরা জানান, তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌর এলাকার মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার এলাকায় গিয়ে শেষ হয় নৌকা বাইচ।
জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
উদ্বোধনের পর রং-বেরঙের পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ভাটিয়ালি গান এবং পানিতে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে নদীর দুই পাড়ের পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দর্শকেরাও মাঝিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’ ধ্বনিতে উৎসাহ দেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জেলা সদরের ‘শাপলা ভয়েস ক্লাব’। দলটি পুরস্কার হিসেবে পায় দুই লাখ টাকা। দ্বিতীয় হয় জেলা সদরের ‘দারমা গ্রামের নৌকা’, তারা পায় দেড় লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে জেলার ‘নবীনগরের পুইল যুব সংঘ’, পুরস্কার হিসেবে পায় এক লাখ টাকা।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।
দুই বছর পর নৌকা বাইচ দেখতে তিতাস নদীর দুই তীরে প্রায় অর্ধলক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। কেউ নদীর তীর থেকে, কেউ আশপাশের ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন ঘাটে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। অনেকে নৌযানে বসেও নৌকা বাইচ দেখেন।
নৌকা বাইচকে ঘিরে দিনভর তিতাস নদীর পাড়জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন প্রাণ ফিরে পায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ