প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে ফের দুটি মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের অভিজাত এই বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত সাত দিনের মধ্যে হরমুজে মার্কিন সামরিক নৌযানে এটি তৃতীয় হামলা।
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে দুটি চালকবিহীন মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। নৌযান দুটি মার্কিন বাহিনীর সামুদ্রিক ড্রোন ছিল বলে ধারণা করছে ইরানি বাহিনী।
পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানায়, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌযানে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। এতে একটি নৌযানে আগুন ধরে যায়। অন্য নৌযানটির কী অবস্থা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলার স্থান থেকে ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাবের উপকূলের দূরত্ব প্রায় ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতির আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিধিনিষেধ এবং ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। এরপর ৯ ডিসেম্বর আরও দুটি যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই অভিজাত শাখা। সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর আবারও দুটি মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলার দাবি করা হলো।
পরপর হামলার এসব দাবি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও বাড়লে তেলের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং মার্কিন নৌযানগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের দাবি ও সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার প্রাথমিক চিত্র সামনে এসেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি