প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম

গাজায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনি পানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ঘনমিটার সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়ছে। আরও প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার শোষণ গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার পাঁচটি প্রধান বর্জ্যপানি শোধনাগারের সবকটিই বর্তমানে বন্ধ। যুদ্ধের আগে থাকা প্রায় ৭৪টি পাম্পিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র ১৮টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। ফলে পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা জনসংখ্যার হার ৮৫ শতাংশের বেশি থেকে কমে প্রায় ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
পানি শোধনের সক্ষমতাও ভয়াবহভাবে কমেছে। সংকটের আগে গাজার শোধনাগারগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা ছিল প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার। বর্তমানে কার্যত সেই সক্ষমতা শূন্যে নেমে এসেছে। এর ফলে অপরিশোধিত বর্জ্যপানি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সাগরের দূষণও বাড়ছে।
তবে শেখ ইজলিন শোধনাগার পুনর্বাসনের কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সহায়তায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ২২ হাজার ঘনমিটার বর্জ্যপানি শোধনের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই সক্ষমতা প্রায় ৬৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি, পানির পাম্প, জেনারেটর, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও ভারী সরঞ্জাম প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পানি কর্তৃপক্ষ। এসব সরঞ্জামের ঘাটতি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, অপরিশোধিত বর্জ্যপানি এভাবে পরিবেশ ও সাগরে পড়তে থাকলে জনস্বাস্থ্য এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি বড় স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম