| শিরোনাম: |

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকানি দেওয়ার অপচেষ্টা করছে বলে
মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষ
যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান
জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, হিন্দু ধর্মীয়
শাস্ত্রমতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে সনাতন ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্ম
হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় অত্যাচারী শাসক কংসের সময়ে তার
আবির্ভাব ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের
পালন ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে
দীর্ঘ সময় একটি নিষ্ঠুর শাসন জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। পরে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই শাসনের পতন
ঘটিয়েছে। এখন দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি,
বিভাজিত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের
পালা।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই
বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। দেশের মানুষ বিদেশে গেলে নিজেদের পরিচয়ের
ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তাই বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়
সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয়ের চেয়ে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে ভাবার
আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা পরিচয় যেন
বিভেদ ও বৈষম্যের কারণ না হয়। দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বাংলাদেশি
জাতীয়তাবাদের চেতনা গুরুত্বপূর্ণ। সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা
বাংলাদেশি’।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের
মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও
সংস্কৃতি পালন করে আসছেন। তবে সময়ে সময়ে কিছু মানুষ রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ
সৃষ্টি এবং বিরোধ জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং
বিদ্যমান সম্প্রীতির পরিবেশ কেউ যাতে নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে
সতর্ক থাকতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা
প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা
করছে। দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন অস্থিরতার কারণ
না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি
নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচএন